ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলের এঘটনায় উপজেলা জুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি কোন ভাবেই মানতে পারছেন না মারধরের শিকার হাসানুর রহমান। আর কারো ক্ষেত্রে এমনটি না ঘটুক সেই প্রত্যাশা তার। পরে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমানকে ভ্রাম্যমান আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
জানাযায়, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য জিয়াউর রহমান বিকেল তিনটার দিকে তার স্ত্রীর জন্মনিবন্ধনের সংশোধনী করাতে উপজেলা কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাসানুর রহমানের কাছে বিষয়টির সমাধান চান। এসময় হাসানুর রহমান সার্ভার ডাউন বলে জিয়াকে জানালে তিনি তার মোবাইল নাম্বার দিতে বলেন। হাসানুর রহমান দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিয়া বাগবিত-ার এক পর্যায়ে তাকে মারধর শুরু করেন। পরে অফিসের লোকজন উত্তপ্ত জিয়াকে থামানোর চেষ্টা করেন।
মারধরের শিকার হাসানুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান নামে এক যুবদল নেতা তাঁর স্ত্রীর জন্মনিবন্ধের সংশোধনী করতে আসে। এসময় সার্ভার ডাউনের কথা বলি। পরে তিনি আমার মোবাইল নাম্বার চান। নাম্বার দিয়ে কি করবেন জানতে চাইলে আমার সাথে বাগবিত-ায় জড়ান। এক পর্যায়ে সে আমার গলাধরে ধাক্কা দেয়। পরে অফিসের লোকজন উত্তপ্ত যুবদল নেতাকে থামানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি কাম্য নয়; উনি এসে পরিচয় দিয়ে কথা বললে হয়তো নাম্বারটি সাথে সাথে দিয়ে দিতাম। কারণ সবাইকে নাম্বার দিলে তারা সময় অসময়ে কল দিয়ে বিরক্ত করে। তাই দিতে চাইনি। এজন্য মারধরের শিকার হব ভাবতে পারিনি।
অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য জিয়াউর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর চাচা পৌর বিএনপির সদস্য সচিব নূরে আলম জিকু বলেন, ফালতু বিষয় নিয়ে আমাকে কল করা আপনার উচিৎ হয়নি। ফোন রাখেন বলে তিনি কল কেটে দেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, অফিসে এসে একটি লোক দায়িত্বপালনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে গলাধাক্কা দেন। পরে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয়।
তিনি আর বলেন, সে কোন দল করে আমার জানা নেই। তবে জিয়াকে আটকের পর যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে ছাড়াতে আসে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, মারধর নয় জিয়াউর রহমান অফিসের মধ্যে হাসানুর রহমানকে গালাগালির এক পর্যায়ে গলা ধাক্কা দিয়েছে। তখন আমি বাহিরে ছিলাম, পরে বিষয়টি অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়েছে।





















