ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ভাই ও তাদের এক বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের মধ্যে দু’জন আপন ভাই এবং আরেকজন তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
নিহত দুই ভাই হলেন—কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার মোহাম্মাদপুর সদকি গ্রামের করিম মণ্ডলের ছেলে রিমন মণ্ডল (২২) এবং সুমন মণ্ডল (২৫)। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধু আসিফ আলম (২২) একই গ্রামের বাসিন্দা ও শাহিন আলমের ছেলে। তিনজনই একটি মোটরসাইকেলে ফরিদপুর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাধবপুর ব্রিজের কাছে পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে চাপা দেয়। প্রচণ্ড ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। বিশেষ করে দুই ভাইয়ের মাথায় হেলমেট না থাকায় আঘাতে মাথা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিকৃত হয়ে যায়।
ওসি মো. হেলালউদ্দিন জানান, রাত ১টা ২০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের নিথর দেহ রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় রাতে ভারী যানবাহনের চলাচল থাকে, কিন্তু মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশও দুর্ঘটনার প্রকৃতি নির্ণয়ে কাজ করছে এবং গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। একই পরিবারের দুই সন্তানের মৃত্যুতে গভীর ট্র্যাজেডি নেমে এসেছে কুষ্টিয়ার মোহাম্মাদপুর সদকি গ্রামে। বন্ধুকে হারিয়ে স্থানীয়দের মনেও ব্যথা ও বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে নিরাপত্তা, বিশেষত মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে এই দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















