ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় পিস্তল সদৃশ বস্তু হাতে এক যুবকের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে গত ৭ নভেম্বর বিকেলে, বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর, লুটপাট ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হারুন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ও আশপাশের দোকানগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক যুবক একটি সাদা ব্যাগ থেকে পিস্তল সদৃশ বস্তু বের করে আবার ঢুকিয়ে রাখছে। ওই ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিস্তল হাতে দেখা যুবকের নাম শাহ মো. জাকারিয়া কাজী (২৫)। তিনি গুনবহা ইউনিয়নের উমরনগর গ্রামের মঞ্জুর কাজীর ছেলে এবং খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। বর্তমানে তিনি উপজেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
অভিযুক্ত যুবক সম্পর্কে জানতে চাইলে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “ভিডিওতে যা দেখা গেছে, সেটি আসল পিস্তল নয়।” তবে কারও কাছে যদি অবৈধ অস্ত্র থাকে, পুলিশ তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে শামসুদ্দিন মিয়া অভিযোগ করেন, নাসিরুলের লোকজন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দ্রুত অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, “ভিডিও ও ছবিগুলো আমরা দেখেছি। তবে এখনও ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করা যায়নি। শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















