ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিনজনের কাছ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। টাকা নেওয়ার পর কার্ড করে না দেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেন (২৭)।
অভিযুক্ত মো. আবুল কালাম (৫৫) উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের সৈয়দগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগপত্রে তাকে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, প্রায় দুই মাস আগে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল কালাম তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেন। একইভাবে তার চাচি মজিদা খাতুনের কাছ থেকে ৫০০ টাকা এবং পার্শ্ববর্তী শিমুলাটিয়া গ্রামের মৃত গণির ছেলে মো. লতিফ মিয়ার কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা দেওয়ার পর কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কার্ডের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি নানা টালবাহানা করেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পরও কোনো কার্ড করে দেওয়া হয়নি।
মো. লতিফ বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কালাম পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। এখন ফ্যামিলি কার্ডও দেন না, টাকাও ফেরত দেন না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. আবুল কালাম বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব করা হচ্ছে। আমি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক। আমাকে অসম্মান করার জন্য এধরণের অভিযোগ করা হয়েছে। যারা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমিও আইনগত ব্যবস্থা নেব।
অভিযোগের বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, কৃষক কার্ড করতে কোনো টাকা লাগে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাব।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 





















