জামালপুরের বকশীগঞ্জে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দশানী নদীতে নির্মিত দুটি বাধ অপসারণ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চর আইরমারী এবং খাপড়া পাড়া গ্রামে নির্মিত বাধ দুটির অপসারণ করা হয়।
এর আগে দুই দল লোক পাল্টাপাল্টি করে দশানী নদীতে পৃথক দুটি বাঁধ নির্মাণ করে। এ ক্ষতির মধ্যে পড়েন গ্রামের কৃষকরা। এনিয়ে ‘দশানী নদীতে অবৈধ বাঁধ/ তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ধান’ শিরোনামে গত ২৮ এপ্রিল দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস পত্রিকায় লিড নিউজ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বাঁধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণের অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই প্রশাসনের টনক নড়ে। প্রশাসন সরেজমিনে পরিদর্শণ করে বাঁধ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা অপসারণ করে।
এর ফলে স্বস্তি ফিরেছে উজানের ২০ গ্রামের মানুষের মধ্যে। এতে রক্ষা পেয়েছে শত শত বিঘা জমির আধাপাকা ধান। তবে হতাশা ব্যক্ত করেছেন নদী পাড়ের মানুষ। এক দিকে উচ্ছ¡াস দেখা দিলেও অন্যদিকে কালো মেঘের ছায়া দেখছেন নদী পাড়ের মানুষ গুলো। জানা গেছে, সম্প্রতি দেওয়াগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খাপড়া পাড়া ও সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চর আইরমারী গ্রামের মানুষ দশানী নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে পাল্টা পাল্টি দুটি বাধ নির্মাণ করেন। নদী ভাঙন রোধে সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিজেদের অর্থায়নে বাধ দুটি নির্মাণ করেন। বাধ নির্মাণের ফলে সাধুরপাড়া, বগারচর ও বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ২০ টি গ্রামের ফসলি জমির ধান ক্ষেত তলিয়ে যায়। বাধ নির্মাণ নিয়ে উজানের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের নিকট বাধ দুটি অপসারণে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বাধ অপসারণে দশানী নদীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে এলাকাবাসীর বাধার মুখে ফিরে আসে প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। বাধা অপসারণে বাধা দেওয়ায় দুই ব্যক্তিকে ৬ মাস করে জেল দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পরদিন শুক্রবার বিকালে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর বাধ নির্মাণকারী খাপড়া পাড়া ও চর আইরমারী এলাকাবাসী বাধ অপসারণে রাজী হন। পরে বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাধ দুটি অপসারণ করা হয়। বাধ দুটি অপসারণের পর উজানের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ¡াস দেখা দেয়। তারা উপজেলা প্রশাসন , বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।
অপরদিকে চর আইরমারী গ্রাম ও খাপড়া পাড়া গ্রামের মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এসব নদী পারের মানুষের দাবি, বার বার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে আমরা নি:স্ব হয়ে পড়েছি। প্রশাসনকে বার বার বলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় আমরা নিজেদের অর্থায়নে বাধ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আশায় গুড়ো বালি ঢেলে দেওয়া হয়েছে। তাই নদী ভাঙনের শিকার খাপড়া পাড়া, চর আইরমারী এলাকায় দ্রæত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, বাধ দুটি অপসারিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ওই এলাকায় নদী ভাঙন রোধে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবির ক্যাপশন- বকশীগঞ্জে দশানী নদীর অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়ে। ছবি- ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস।





















