১১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটসহ একাধিক সংস্থার ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ‘ট্রোজান ১৩৩৭’ ও ‘দ্যা রেড ঈগল’ নামের দুই হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করেছে। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপও যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবার দুপুর থেকে পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা শুরু হয় এবং বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে আগেই আক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। টেলিগ্রামে হ্যাকাররা দাবি করেছে, তারা প্রায় ১০০টি ওয়েবসাইটে সফল হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ঠিকানাও প্রকাশ করেছে।

 

আক্রান্ত কিছু ওয়েবসাইট বর্তমানে ‘অকার্যকর’ অবস্থায় রয়েছে, আবার কিছু ওয়েবসাইটে হ্যাকারদের বার্তা ভেসে উঠছে। রাজধানীর রূপনগর সরকারি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায় “হ্যাকড বাই লুসিয়ান ক্রাইজ” শিরোনামে ফিলিস্তিনের পক্ষে বার্তা এবং ইসরায়েলের মিত্রদের সম্পদে ধারাবাহিক হামলার হুমকি। দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘ট্রোজান ১৩৩৭’ গোষ্ঠী নিজেদের ভারতীয় হ্যাকার পরিচয় দিয়ে জানায়, ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

এছাড়া ‘দ্যা রেড ঈগল’ গোষ্ঠী প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দাবি করেছে এবং প্রমাণ হিসেবে কিছু তথ্যের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে। তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হামলারও দাবি করেছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যার পর এসব ওয়েবসাইট স্বাভাবিকভাবে সচল দেখা গেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক দুর্বল ডিডস আক্রমণ চালানো হয়েছিল যা দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “এই আক্রমণগুলো মূলত ওয়েবসাইট ডিফেইসমেন্ট ধরনের, যেখানে হোমপেইজ বদলে হ্যাকাররা নিজেদের পরিচয় ও বার্তা প্রকাশ করে। তবে যেসব ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা দুর্বল, সেখানে ডাটাবেইজে প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

 

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, আবেদনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যদি হ্যাকাররা এসব তথ্য দখল করতে পারে, তবে তা ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করার আশঙ্কা থাকে।

 

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা

পোষ্টের সময় : ০৯:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটসহ একাধিক সংস্থার ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ‘ট্রোজান ১৩৩৭’ ও ‘দ্যা রেড ঈগল’ নামের দুই হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করেছে। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপও যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবার দুপুর থেকে পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা শুরু হয় এবং বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে আগেই আক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। টেলিগ্রামে হ্যাকাররা দাবি করেছে, তারা প্রায় ১০০টি ওয়েবসাইটে সফল হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ঠিকানাও প্রকাশ করেছে।

 

আক্রান্ত কিছু ওয়েবসাইট বর্তমানে ‘অকার্যকর’ অবস্থায় রয়েছে, আবার কিছু ওয়েবসাইটে হ্যাকারদের বার্তা ভেসে উঠছে। রাজধানীর রূপনগর সরকারি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায় “হ্যাকড বাই লুসিয়ান ক্রাইজ” শিরোনামে ফিলিস্তিনের পক্ষে বার্তা এবং ইসরায়েলের মিত্রদের সম্পদে ধারাবাহিক হামলার হুমকি। দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘ট্রোজান ১৩৩৭’ গোষ্ঠী নিজেদের ভারতীয় হ্যাকার পরিচয় দিয়ে জানায়, ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

এছাড়া ‘দ্যা রেড ঈগল’ গোষ্ঠী প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দাবি করেছে এবং প্রমাণ হিসেবে কিছু তথ্যের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে। তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হামলারও দাবি করেছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যার পর এসব ওয়েবসাইট স্বাভাবিকভাবে সচল দেখা গেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক দুর্বল ডিডস আক্রমণ চালানো হয়েছিল যা দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “এই আক্রমণগুলো মূলত ওয়েবসাইট ডিফেইসমেন্ট ধরনের, যেখানে হোমপেইজ বদলে হ্যাকাররা নিজেদের পরিচয় ও বার্তা প্রকাশ করে। তবে যেসব ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা দুর্বল, সেখানে ডাটাবেইজে প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

 

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, আবেদনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যদি হ্যাকাররা এসব তথ্য দখল করতে পারে, তবে তা ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করার আশঙ্কা থাকে।

 

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

Share this news as a Photo Card