রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একটি মন্দির থেকে পুলিশের গুলি চুরির ঘটনায় তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শ্রীশ্রী মহাদেব আশ্রম ও কালী মন্দিরের সংলগ্ন ভবনে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কক্ষ থেকে রাতের অন্ধকারে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় চারজন পুলিশ সদস্য ও তিনজন আনসার সদস্য নিয়মিত রাত কাটাতেন। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁদের ব্যবহৃত চারটি ব্যাগ, দুটি মানিব্যাগ ও তিনটি মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যাগগুলোর একটিতে পুলিশের রিজার্ভ শর্টগানের ৩০ রাউন্ড গুলি ছিল।
ঘটনার পর সকালের দিকে মন্দির সংলগ্ন একটি পতিত জমির কাছে ব্যাগগুলো পাওয়া গেলেও গুলি তখনও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন উঠে এসেছে।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার জানান, এ ধরনের ঘটনা সরাসরি অবহেলার ফল। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেননি। ঘটনার জেরে বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক উপ-পরিদর্শক (এসআই), এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং পাঁচজন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন শৈথিল্য সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পুলিশের ব্যাগ থেকে গুলি চুরি হওয়া নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এই ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, সেটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি মন্দির বা উপাসনালয়ের মতো সংবেদনশীল এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, রাত্রিকালীন টহল এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে একই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















