১২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএসএফ গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, লাশ আটক

 

চুয়াডাঙ্গার গয়েশপুর সীমান্তে আবারও ঘটে গেলো মর্মান্তিক ঘটনা। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর বিএসএফের গুলিতে শহিদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। গুলি করার পর নিহতের মরদেহও দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়ে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মহেশপুর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তের ৭০ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম গয়েশপুর গ্রামের নষ্কর মালিতার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং প্রায়ই সীমান্ত অতিক্রম করতেন।

 

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি জানায়, ওই দিন শহিদুল সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। এসময় বিএসএফের দুই সদস্য তাকে অনুসরণ করতে শুরু করলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা মরদেহ দ্রুত ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।

 

এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে বারবার হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সমাধানের বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে। নিহতের পরিবারও মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। তারা দাবি করেছেন, যেকোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলেও একজন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে লাশ নিয়ে যাওয়া মানবাধিকারবিরোধী।

 

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

 

সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে আসছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে সংবাদ প্রকাশ: ময়মনসিংহে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

'২-৩ বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের আসবে'

17 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বিএসএফ গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, লাশ আটক

পোষ্টের সময় : ১০:২০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

চুয়াডাঙ্গার গয়েশপুর সীমান্তে আবারও ঘটে গেলো মর্মান্তিক ঘটনা। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর বিএসএফের গুলিতে শহিদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। গুলি করার পর নিহতের মরদেহও দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়ে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মহেশপুর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তের ৭০ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম গয়েশপুর গ্রামের নষ্কর মালিতার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং প্রায়ই সীমান্ত অতিক্রম করতেন।

 

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি জানায়, ওই দিন শহিদুল সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। এসময় বিএসএফের দুই সদস্য তাকে অনুসরণ করতে শুরু করলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা মরদেহ দ্রুত ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।

 

এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে বারবার হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সমাধানের বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে। নিহতের পরিবারও মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। তারা দাবি করেছেন, যেকোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলেও একজন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে লাশ নিয়ে যাওয়া মানবাধিকারবিরোধী।

 

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

 

সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে আসছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

 

Share this news as a Photo Card