দেশের অনেক পরিবারেই এখন কুকুর ও বিড়ালকে আদরের সদস্য হিসেবে লালন–পালন করা হয়। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় আবার অনেক পথশকুন ও পথবিড়ালও থাকে যাদের দেখভাল করেন এলাকার মানুষজন। নিয়মিত খাবার দেওয়ার সময় কিংবা শিশুদের খেলার মুহূর্তে বিড়াল–কুকুরের আঁচড় বা হালকা কামড় লাগা খুব অস্বাভাবিক নয়। তবে যেকোনো আঁচড় বা কামড়ে যে জলাতঙ্ক হবে, বিষয়টি এমন নয়। কেবলমাত্র আক্রান্ত প্রাণী যদি জলাতঙ্ক ভাইরাস বহন করে, তবেই সেই ঝুঁকি তৈরি হয়।
যদি কোনো কুকুর বা বিড়ালকে নিয়মিত র্যাবিস টিকা দেওয়া থাকে, তাহলে তার আঁচড় বা কামড়ে সাধারণত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে এবং মালিকানাধীন ও পথপ্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ল্ড ওয়ান হেলথ ডে উপলক্ষে একটি বিশেষ র্যাবিস ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামে।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট এবং ওয়ান হেলথ ইয়াং ভয়েস বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে গত ২৯ নভেম্বর দিনব্যাপী এই বিনামূল্যের চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ক্যাম্পে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোষা প্রাণীর মালিকেরা তাদের কুকুর–বিড়ালকে নিয়ে এসে টিকা দেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মৌলিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
অনেক মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এসে তাদের পোষা প্রাণীকে টিকা প্রদান করেন। সংগঠকরা জানান, প্রতি বছরই জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এই ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। তারা মনে করেন, নিয়মিত টিকাদান শুধু মালিক নয়, পুরো সমাজের জন্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
এ ছাড়া পথপ্রাণীদের প্রতিও জনগণের সহানুভূতিশীল আচরণ বাড়ছে বলে মনে করেন আয়োজকরা। তারা জানান, যেসব এলাকায় মানুষ নিয়মিতভাবে পথকুকুরদের খাবার দেন, সেখানেও এ ধরনের টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও কমে আসবে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে প্রচুর মানুষ উপস্থিত থাকায় আয়োজকরা এটিকে অত্যন্ত সফল উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















