হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা কয়েক ঘণ্টা ধরে নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায় ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে কার্গো টার্মিনালের একাধিক গুদামঘর আগুনে পুড়ে যায়।
দমকল অধিদপ্তরের ৩৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ফায়ার সার্ভিস, বিমানবাহিনী এবং বিমানবন্দরের নিজস্ব ইউনিট একযোগে কাজ করলেও প্রথম কয়েক ঘণ্টা আগুনের তীব্রতা কমানো সম্ভব হয়নি। ভয়াবহ ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কাই ক্যাপিটাল লাউঞ্জ নামের একটি অংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তেই তা পাশের গুদামঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কার্গো এলাকায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
কুরিয়ার কোম্পানি তামিম এক্সপ্রেস লিমিটেডের পরিচালক সুলতান আহমেদ বলেন, “শনিবার হাফ শিফটিং চলছিল। আমাদের আড়াই টন মাল ছিল, সব পুড়ে গেছে নিশ্চিতভাবে। এগুলো ছিল গার্মেন্টস আইটেম—বাটন, জিপার, ফেব্রিকস ও লেভেল সামগ্রী।”
অন্যদিকে, কুরিয়ার কোম্পানি মাস্টার ইয়ারের সিএনএফ এজেন্ট মো. রোকন মিয়া জানান, “প্রতিদিন হাজার টনের বেশি পণ্য আসে কার্গো হয়ে। এই আগুনে ব্যবসায়ীরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বেন। স্কাই লাউঞ্জে কেমিক্যাল, ফেব্রিক ও মেশিনারিজ রাখা থাকায় সম্ভবত কেমিক্যাল থেকেই আগুন ছড়িয়েছে।”
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ বলেন, “কার্গো সেকশনের একটি অংশে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস, বিমানবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একত্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।”
এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও, কয়েকজন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, কোটি টাকার পণ্য আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















