০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করা হলো কচ্ছপ

 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল, ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬:৩০ মিনিটের দিকে এক চাঞ্চল্যকর কচ্ছপ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। ধৃত যাত্রী মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে ৯২৫টি কচ্ছপ নিয়ে আসছিলেন।

 

যাত্রীর নাম মোহাম্মদ শওকত আলী ভূঁইয়া (৫৪)। তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু লাগেজ স্ক্যানিং করার সময় কচ্ছপ সদৃশ বস্তু শনাক্ত হওয়ায় তিনি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তল্লাশিতে দেখা যায়, সবুজ রঙের লাগেজ থেকে ১৪৫টি স্টার টরটয়েজ এবং নীল রঙের আরেকটি লাগেজ থেকে ৭৮০টি কড়িকাইট্টা প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। এদের মোট ওজন প্রায় ৫৮ কেজি।

 

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ধারা ৬ ও ৩৪(খ) এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ২৫-বি অনুযায়ী এটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামি মোহাম্মদ শওকত আলী ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলো বর্তমানে বন অধিদপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই অভিযান চলাকালীন সময়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট, বন অধিদপ্তর এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত তল্লাশির ব্যবস্থা থাকলেও এ ধরনের ঘটনা নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কচ্ছপ পাচারের চাহিদি অনেক বেশি, যার কারণে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন অধিদপ্তর নাগরিকদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হতে এবং পাচারের তথ্য দাখিল করতে আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করা হলো কচ্ছপ

পোষ্টের সময় : ০৪:৩০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল, ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬:৩০ মিনিটের দিকে এক চাঞ্চল্যকর কচ্ছপ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। ধৃত যাত্রী মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে ৯২৫টি কচ্ছপ নিয়ে আসছিলেন।

 

যাত্রীর নাম মোহাম্মদ শওকত আলী ভূঁইয়া (৫৪)। তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু লাগেজ স্ক্যানিং করার সময় কচ্ছপ সদৃশ বস্তু শনাক্ত হওয়ায় তিনি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তল্লাশিতে দেখা যায়, সবুজ রঙের লাগেজ থেকে ১৪৫টি স্টার টরটয়েজ এবং নীল রঙের আরেকটি লাগেজ থেকে ৭৮০টি কড়িকাইট্টা প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। এদের মোট ওজন প্রায় ৫৮ কেজি।

 

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ধারা ৬ ও ৩৪(খ) এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ২৫-বি অনুযায়ী এটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামি মোহাম্মদ শওকত আলী ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলো বর্তমানে বন অধিদপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই অভিযান চলাকালীন সময়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট, বন অধিদপ্তর এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত তল্লাশির ব্যবস্থা থাকলেও এ ধরনের ঘটনা নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কচ্ছপ পাচারের চাহিদি অনেক বেশি, যার কারণে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন অধিদপ্তর নাগরিকদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হতে এবং পাচারের তথ্য দাখিল করতে আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

Share this news as a Photo Card