বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্যর্থ ‘ডেমু ট্রেন’ প্রকল্পের তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আবারও চীনের তৈরি ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করছে সংস্থাটি। ২০১৩ সালে চীন থেকে আনা ২০ সেট ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই অচল হয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে রেলওয়ে। তবুও নতুন প্রকল্পে চীনের অনুদানে আরও ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক ইঞ্জিন আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১,৭২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার বহন করবে প্রায় ৪৯৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাকিটা দেবে চীন অনুদান হিসেবে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, পুরনো ইঞ্জিনগুলোর বয়স বেশি হওয়ায় নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপাকে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে রেলওয়ের ১২৪টি ইঞ্জিন ২০ বছরেরও বেশি পুরনো, আর ৬৮টির বয়স ৪০ বছরের উপরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ইঞ্জিন কেনার আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করা জরুরি, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায়—চীনা ইঞ্জিনগুলো দেশের জলবায়ু, ট্র্যাক গেজ ও চলাচল ব্যবস্থা উপযোগী কি না। অন্যথায় ডেমুর মতো ভুল পুনরায় ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়।
রেলওয়ের কর্মকর্তা ও লোকোমাস্টাররা বলছেন, নতুন ইঞ্জিন কেনার পাশাপাশি খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারা সতর্ক করেছেন—ইঞ্জিন কিনলেই কাজ শেষ নয়; রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে পুরো প্রকল্প ব্যর্থ হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চীনের অনুদানভিত্তিক সহযোগিতা রেল খাতের আধুনিকায়নে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, মাননিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। কেননা অতীতের ব্যর্থ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন প্রকল্পও হতে পারে আরেকটি ব্যয়বহুল ভুলের উদাহরণ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, নতুন ইঞ্জিনগুলো চালু হলে আন্তনগর ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়বে। তবে সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকি না থাকলে এই উদ্যোগও ডেমুর মতো ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















