সিলেট শহরের শাহপরাণ থানার পরগনা বাজার এলাকায় এক ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ফয়সাল কাদের নামে এক যুবক পরিবারের বিরোধের সময় মোবাইলে একটি ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঘটনাটি দেখে এলাকার কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে আটক করে রাখে।
খবর পেয়ে শাহপরাণ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় ফয়সালকে উদ্ধার করতে। কিন্তু তখন উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেনসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পাশাপাশি পুলিশের একটি গাড়িও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি আলাদা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় মচ্ছবির আলী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন। অপর মামলাটি দায়ের করেছে পুলিশ, যেখানে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অনেকেই দাবি করেছেন, ভিডিও ধারণের ঘটনায় প্রথমে ভুল বোঝাবুঝি হয়, যা পরে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে পুলিশ বলছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের সনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশকে আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ধরনের অরাজকতা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে দমন করা হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধে উৎসাহিত না হয়।
স্টাফ রিপোর্টার 




















