নেত্রকোনার মদনে ছোট বোন শ্রাবন্তী আক্তারকে (১৩) ছুরিকাঘাত করে বড় বোন বৃষ্টি আক্তারকে (১৭) দুই যুবক প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মদন উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শ্রাবন্তীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী নওধার গ্রামের আলীম উদ্দিনের দুই মেয়ে বৃষ্টি আক্তার ও শ্রাবন্তী আক্তার এবং ভাতিজা ইমরান (৪) মঙ্গলবার মদন সদরে আসেন। বৃষ্টির মদন আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে নবম শ্রেণির ফরম পূরণ করার কথা ছিল। পরে তারা মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার সময় উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে দুই যুবক শ্রাবন্তীকে ছুরিকাঘাত করে বৃষ্টিকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
চা ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, আহত অবস্থায় মেয়েটি তাঁর দোকানে এসে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে কয়েকজন মিলে তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফরিন সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বোনকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শ্রাবন্তী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও হাতে আঘাত করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
শ্রাবন্তীর চাচী দুলেনা আক্তার বলেন, বৃষ্টি বাড়ি থেকে নবম শ্রেণির ফরম পূরণের কথা বলে বের হয়েছিল। ঘটনার খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে আসেন। শ্রাবন্তীর জ্ঞান ফিরলে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা জানা যেতে পারে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন করিম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৃষ্টি যেখানে থাকুক, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 



















