০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

 

নেত্রকোনার মদনে বালই নদীতে অসাধু চক্রের বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী ও জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে নদীর নির্দিষ্ট জায়গায় কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়। এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে মাছ অসুস্থ হয়ে ভেসে ওঠে বা মারা যায়। পরে জাল ফেলে এসব মাছ সংগ্রহ করা হয়। বিষ নদীর পানিতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শুধু মাছ নয়, নদীতে থাকা হাঁস, ব্যাঙ, শামুক, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এসব বিষাক্ত মাছ খেলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া বিষাক্ত পানির কারণে ফসল ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে বাঘমারা গ্রামের জানু মিয়া, অনল মিয়া, রুস্তমসহ আরও অনেকে বলেন, “একই গ্রামের আনারুল, সানারুল, সম্রাট, আইনুল, সুহেল, বকুল ও এটলাসসহ বেশ কয়েকজন অসাধু জেলে রাতের আঁধারে বিষ দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে প্রথমে আমরা তাদের বাধা দেই। কিন্তু তারা আমাদের কোনো বাধা মানেনি; রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরেই ফেলেছে।”

 

তারা আরও বলেন, “বিষের প্রভাবে নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে উঠেছে। নদীতে অনেকের হাঁসের খামার রয়েছে এবং ওই হাঁসগুলো নদীতেই খাবার খায়। সকালে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকটি হাঁস মরে ভেসে উঠেছে। নদীতে প্রায় ১৫-২০ জন খামারির ১০ হাজারের বেশি হাঁস রয়েছে। ওই নদীতে শুধু মাছ নয়, শত শত গরু-বাছুরকেও গোসল করানো হয়। এখন বিষ প্রয়োগের ফলে কয়েক হাজার হাঁস মৃত্যুর মুখে রয়েছে। আমরা এখন খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।”

 

অভিযুক্ত মৎস্যজীবী আইনুল জানান, “আমরা মূলত নদীতে মাছ ধরতে বিষ দিইনি। মাছ ধরা চোরেরা এই বিষ দিয়ে থাকতে পারে।”

 

মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উল্লাহ জানান, “অসাধু জেলেরা ‘ফাইটার’ নামে একটি ওষুধ দেয়। এতে নদীর নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকা সব ধরনের মাছ তীরে চলে আসে। বাঘমারার সামনে বালই নদীতে এভাবে মাছ শিকারের কথা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করার জন্য ভুক্তভোগীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিষ দিয়ে শিকার করা মাছে প্রকৃত স্বাদ থাকে না এবং এসব মাছ দ্রুত সময়ের মধ্যে পচে যায়।

 

বারসিক-এর জেলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান বলেন, “উন্মুক্ত এবং প্রবাহিত জলাশয়ে ওষুধ ব্যবহার করে মাছ শিকার নিষিদ্ধ। কারণ নদীর কোনো স্থানে এ জাতীয় বিষ দিলে সেখানে অন্তত ১৫ দিন কোনো মাছ আসে না। এ ছাড়া বিষযুক্ত মাছ খেলে মানুষের শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়। তাই এই অসাধু কাজ বন্ধে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ জরুরি।”

 

মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে এখনই খোঁজ নিচ্ছি।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

পোষ্টের সময় : ০৪:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে বালই নদীতে অসাধু চক্রের বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী ও জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে নদীর নির্দিষ্ট জায়গায় কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়। এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে মাছ অসুস্থ হয়ে ভেসে ওঠে বা মারা যায়। পরে জাল ফেলে এসব মাছ সংগ্রহ করা হয়। বিষ নদীর পানিতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শুধু মাছ নয়, নদীতে থাকা হাঁস, ব্যাঙ, শামুক, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এসব বিষাক্ত মাছ খেলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া বিষাক্ত পানির কারণে ফসল ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে বাঘমারা গ্রামের জানু মিয়া, অনল মিয়া, রুস্তমসহ আরও অনেকে বলেন, “একই গ্রামের আনারুল, সানারুল, সম্রাট, আইনুল, সুহেল, বকুল ও এটলাসসহ বেশ কয়েকজন অসাধু জেলে রাতের আঁধারে বিষ দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে প্রথমে আমরা তাদের বাধা দেই। কিন্তু তারা আমাদের কোনো বাধা মানেনি; রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরেই ফেলেছে।”

 

তারা আরও বলেন, “বিষের প্রভাবে নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে উঠেছে। নদীতে অনেকের হাঁসের খামার রয়েছে এবং ওই হাঁসগুলো নদীতেই খাবার খায়। সকালে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকটি হাঁস মরে ভেসে উঠেছে। নদীতে প্রায় ১৫-২০ জন খামারির ১০ হাজারের বেশি হাঁস রয়েছে। ওই নদীতে শুধু মাছ নয়, শত শত গরু-বাছুরকেও গোসল করানো হয়। এখন বিষ প্রয়োগের ফলে কয়েক হাজার হাঁস মৃত্যুর মুখে রয়েছে। আমরা এখন খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।”

 

অভিযুক্ত মৎস্যজীবী আইনুল জানান, “আমরা মূলত নদীতে মাছ ধরতে বিষ দিইনি। মাছ ধরা চোরেরা এই বিষ দিয়ে থাকতে পারে।”

 

মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উল্লাহ জানান, “অসাধু জেলেরা ‘ফাইটার’ নামে একটি ওষুধ দেয়। এতে নদীর নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকা সব ধরনের মাছ তীরে চলে আসে। বাঘমারার সামনে বালই নদীতে এভাবে মাছ শিকারের কথা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করার জন্য ভুক্তভোগীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিষ দিয়ে শিকার করা মাছে প্রকৃত স্বাদ থাকে না এবং এসব মাছ দ্রুত সময়ের মধ্যে পচে যায়।

 

বারসিক-এর জেলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান বলেন, “উন্মুক্ত এবং প্রবাহিত জলাশয়ে ওষুধ ব্যবহার করে মাছ শিকার নিষিদ্ধ। কারণ নদীর কোনো স্থানে এ জাতীয় বিষ দিলে সেখানে অন্তত ১৫ দিন কোনো মাছ আসে না। এ ছাড়া বিষযুক্ত মাছ খেলে মানুষের শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়। তাই এই অসাধু কাজ বন্ধে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ জরুরি।”

 

মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে এখনই খোঁজ নিচ্ছি।”

 

Share this news as a Photo Card