নেত্রকোনার মদনে বিবেক হত্যা মামলার নিস্পত্তির জরিমানার টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত সম্রাট, কামাল, রুবেল, তারু, মাউজ উদ্দিন, খাইরুল ও আরশ মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শরিন ও সাহেলাসহ বাকিরা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা যায়, আলমশ্রী গ্রামের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালে কৃষক বিবেক নিহত হন। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া প্রধান আসামি ছিলেন। পরবর্তীতে মামলাটি গ্রাম বৈঠকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিস্পত্তি হয়। এ টাকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নিকট জমা রাখার কথা ছিল। কিন্তু টাকা নিয়ে গড়িমসি করায় ফারুকের লোকজনের সঙ্গে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান হিরা, বাচ্চু, কামরুল ও বিল্লালের গোত্রের বিরোধ দেখা দেয় এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আলমশ্রী গ্রামের মিলন মিয়া জানান, তিনি রোকন মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি জমি বন্ধক নেন। ওই টাকা থেকে বিবেক হত্যা মামলার জরিমানার অংশ হিসেবে ফারুক মেম্বার ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আলমশ্রী বাজারে তাকে মারধর করা হয়।
ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া জানান, তিনি বিবেক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। প্রায় ৪০/৪৫ দিন আগে গ্রাম বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা হয়। মাতাব্বরা পাঁচ গোত্রের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেন। চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন, তবে অন্যরা এখনো দেয়নি। তবে মিলনের নিকট থেকে রোকনের ৩০ হাজার টাকা দাবি বা মারধরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান তালুকদার হিরা বলেন, মামলার আসামিরাই মূলত জরিমানার টাকা পরিশোধ করবে।
মদন থানার ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষ ঘটে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন এবং ২০/২৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। তবে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















