কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা দিয়ে একদল লোক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ সময় উপজেলার আসাদপুর গ্রামের চারটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত মাজারগুলো হলো—কফিল উদ্দিন শাহ ও হাওয়ালি শাহ মাজার, যেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়; এবং কালাই শাহ ও আবদু শাহ মাজার, যেগুলো ভাঙচুরের শিকার হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরে সেই ক্ষোভ মাইকযোগে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় হোমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট ২,২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আকস্মিক এ হামলায় দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহাবস্থান বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















