ময়মনসিংহে ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’-এর তাৎপর্য ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন বেলা (Bangladesh Environmental Lawyers Association – BELA) ও অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২১ অক্টোবর ২০২৫) শহরের গ্রীন পয়েন্ট ট্রেনিং সেন্টার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে বেলার বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেটওয়ার্ক সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক জনাব মীর আকরাম উদ্দিন আহমদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসাদুল্লাহ আল গালিব এবং বেলার ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এ এম এম মামুন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই আইন নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায়, যা দুর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের তথ্য অধিকার আইনের কাঠামো, আবেদন প্রক্রিয়া, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা, আপিল ও পুনর্বিবেচনা ব্যবস্থা, এবং মাঠপর্যায়ে আইনের প্রয়োগ সংক্রান্ত নানা দিক তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট থেকে তথ্যপ্রাপ্তিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন।
বেলার ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এ এম এম মামুন জানান, তথ্য অধিকার আইনকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য শুধু প্রশাসন নয়, নাগরিক সমাজকেও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, “তথ্য পাওয়া মানে ক্ষমতায়ন— নাগরিক যখন তথ্য জানবে, তখনই সে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে।”
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা তাঁর বক্তব্যে বলেন, তথ্য অধিকার আইন শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের মাঝে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি নাগরিক যেন সহজে তথ্য পেতে পারে, সেটিই হবে প্রকৃত গণতন্ত্রের রূপ।”
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দিন আহমদ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, “তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন শুধুমাত্র প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল।”
আয়োজকরা জানান, তথ্য অধিকার আইনের সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় আরও দক্ষ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারেন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















