০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে ১৬ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ স্থানীয় প্রতাবশালীর বিরুদ্ধে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী

 

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর কোনাপাড়া কটিয়ার মোড় এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী পরিবারের হয়রানি, দখলচেষ্টা ও হুমকিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনি সহায়তা কামনা করে সাংবাদিকদের জানান, তার ১৬ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মজিদ ও এমদাদুলসহ তাদের সহযোগীরা।ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীর, পিতা সৈয়দ আব্দুল মান্নান, গ্রাম কোনাপাড়া পীরবাড়ি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭৪ সালে কেনা তার ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে বিরোধ চলছে। জমিটির খাজনা পরিশোধসহ বিআরএস খারিজ তার নামে রয়েছে এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র তার কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি আরও বলেন, এ বিরোধের বিষয়ে এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩টি দরবার ও সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা কোনো সালিশি সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হননি। বরং বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগেই তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, তার জমির ওপর দিয়ে একটি রাস্তা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে সেই রাস্তা দিয়েও তাকে চলাচল করতে দেওয়া হয় না। তিনি ওই পথে যেতে চাইলে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে আসে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ অবস্থায় তিনি নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানান। এ ঘটনায় একই এলাকার জোবেদা (স্বামী মৃত করম আলী), আব্দুল মজিদ, মালেক, এমদাদুল, সাবিনা ও রুজিনাসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুধু জাহাঙ্গীরই নন, এলাকার আরও অনেক বাসিন্দা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, মজিদ ও এমদাদুল তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তার ছেলেকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আরেক ভুক্তভোগী মোকসেদুল জানান, প্রায় তিন মাস আগে একটি মেয়েলী বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়। পরে প্রভাব খাটিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এলাকার সাবেক এক ইউপি সদস্যের স্ত্রী হেলেনা খাতুন বলেন, তার কাছ থেকেও জমির ওপর ফসলি ঋণের কথা বলে ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করলে স্থানীয় দরবার সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বাকি ৫০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকা ফসলের লাভসহ মোট ৭০ হাজার টাকা এখনও পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্তদের আপন চাচাতো ভাই হামিদুলও অভিযোগ করে বলেন, মজিদ ও এমদাদুল লোকজন নিয়ে তার ঘরে ঢুকে হুমকি-ধামকি দেয় এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, মজিদ, মালেক ও এমদাদুল জোরপূর্বক তার জমিতে বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ বিষয়ে তিনি আদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে কাজ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তারা সেই নির্দেশ মানছেন না বলে অভিযোগ করেন।ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সামেনা খাতুন বলেন, আমার স্বামী পরিবারে একা। আমরা আমাদের নিজস্ব জমিতে গেলেও তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারমুখী আচরণ করে। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি এবং আমাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে খুবই চিন্তিত।

 

তিনি আরও জানান, জমির এই বিরোধ মীমাংসার জন্য অতীতে ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়নের মরহুম মতিন চেয়ারম্যান, মরহুম আফাজ উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাইফুদ্দীন আহমেদ বকুল চেয়ারম্যান, সাইদ চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং কোতোয়ালী থানা পুলিশ একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা কোনো সিদ্ধান্ত মানতে রাজি না হয়ে গায়ের জোরে জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীর প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তিনি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে ১৬ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ স্থানীয় প্রতাবশালীর বিরুদ্ধে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী

পোষ্টের সময় : ১১:২১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

 

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর কোনাপাড়া কটিয়ার মোড় এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী পরিবারের হয়রানি, দখলচেষ্টা ও হুমকিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনি সহায়তা কামনা করে সাংবাদিকদের জানান, তার ১৬ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মজিদ ও এমদাদুলসহ তাদের সহযোগীরা।ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীর, পিতা সৈয়দ আব্দুল মান্নান, গ্রাম কোনাপাড়া পীরবাড়ি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭৪ সালে কেনা তার ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে বিরোধ চলছে। জমিটির খাজনা পরিশোধসহ বিআরএস খারিজ তার নামে রয়েছে এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র তার কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি আরও বলেন, এ বিরোধের বিষয়ে এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩টি দরবার ও সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা কোনো সালিশি সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হননি। বরং বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগেই তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, তার জমির ওপর দিয়ে একটি রাস্তা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে সেই রাস্তা দিয়েও তাকে চলাচল করতে দেওয়া হয় না। তিনি ওই পথে যেতে চাইলে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে আসে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ অবস্থায় তিনি নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানান। এ ঘটনায় একই এলাকার জোবেদা (স্বামী মৃত করম আলী), আব্দুল মজিদ, মালেক, এমদাদুল, সাবিনা ও রুজিনাসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুধু জাহাঙ্গীরই নন, এলাকার আরও অনেক বাসিন্দা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, মজিদ ও এমদাদুল তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তার ছেলেকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আরেক ভুক্তভোগী মোকসেদুল জানান, প্রায় তিন মাস আগে একটি মেয়েলী বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়। পরে প্রভাব খাটিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এলাকার সাবেক এক ইউপি সদস্যের স্ত্রী হেলেনা খাতুন বলেন, তার কাছ থেকেও জমির ওপর ফসলি ঋণের কথা বলে ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করলে স্থানীয় দরবার সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বাকি ৫০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকা ফসলের লাভসহ মোট ৭০ হাজার টাকা এখনও পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্তদের আপন চাচাতো ভাই হামিদুলও অভিযোগ করে বলেন, মজিদ ও এমদাদুল লোকজন নিয়ে তার ঘরে ঢুকে হুমকি-ধামকি দেয় এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, মজিদ, মালেক ও এমদাদুল জোরপূর্বক তার জমিতে বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ বিষয়ে তিনি আদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে কাজ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তারা সেই নির্দেশ মানছেন না বলে অভিযোগ করেন।ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সামেনা খাতুন বলেন, আমার স্বামী পরিবারে একা। আমরা আমাদের নিজস্ব জমিতে গেলেও তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারমুখী আচরণ করে। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি এবং আমাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে খুবই চিন্তিত।

 

তিনি আরও জানান, জমির এই বিরোধ মীমাংসার জন্য অতীতে ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়নের মরহুম মতিন চেয়ারম্যান, মরহুম আফাজ উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাইফুদ্দীন আহমেদ বকুল চেয়ারম্যান, সাইদ চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং কোতোয়ালী থানা পুলিশ একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা কোনো সিদ্ধান্ত মানতে রাজি না হয়ে গায়ের জোরে জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সৈয়দ জাহাঙ্গীর প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তিনি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

 

Share this news as a Photo Card