১০:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ স্বাস্থ‍্যবিভাগে শূন্যপদ ৮৪৮, ব‍্যাহত সেবা 

 

বিগত সরকারের বেখায়ালিপনার কারণে জনবল সঙ্কটে ভুগছে ময়মনসিংহ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে সরকারি চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছে এই জেলার প্রায় অর্ধকোটি সাধারন মানুষ। এ সুযোগে উচ্চমূল্যের চিকিৎসা সেবায় পকেট ভারি হচ্ছে ব্যাক্তি মালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে।

 

তবে বর্তমান অন্তবর্তী সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে ঢেলে সাজাতে জনবল নিয়োগসহ নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছে, বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা।

 

সূত্র জানায়, ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী জেলা ময়মনসিংহ। ২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ি এই জেলার জনসংখ্যা ৫৮ লাখ ১ হাজার ১৮৭ জন। এর বিপরীতে জেলার ১৩টি উপজেলার ১১টি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং একটি মা ও শিশু হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্টানে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল। এ কারণে সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিলছে না পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা।

 

জেলায় শূন্যপদ ৮৪৮ টি:

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারিভাবে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৪টি। এর বিপরীতে ২ হাজার ৪৩৬ পদে জনবল বর্তমানে কর্মরত থাকলেও শূন্য রয়েছে ৮৪৮টি মঞ্জুরীকৃত পদ। এসব শূন্য পদের মধ্যে রয়েছে মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারি, সিনিয়র স্টাফ নার্স, পরিসংখ্যানবিদ, ল্যাব এসিসটেন্ট, অফিস সহায়ক, স্টোর কীপার, প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা এবং গাড়ী চালক।

 

ঢেলে সাজাতে চিকিৎসকদের বদলী ও পুনবিন্যাস :

 

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ জেলার নতুন সিভিল সার্জন হিসাবে যোগদান করেছেন ডা: মোহাম্মদ ছ্ইাফুল ইসলাম। দায়িত্বগ্রহন গ্রহন করেই তিনি স্বাস্থ্যবিভাগকে ঢেলে সাজাতে গ্রহন করেন নানা উদ্যোগ। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি চিকিৎসক ঘাটতি পূরণেও সক্রিয় ভূমিকা রাখা। ফলে বিগত এক বছরে যেসব উপজেলায় চিকিৎসক অপেক্ষাকৃত বেশি রয়েছে সেখান থেকে কিছু চিকিৎসক বদলীয় করে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়। এতে ৫ জন মেডিকেল অফিসারকে সমঝোতার ভিত্তিতে বদলী এবং ১৮ জন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে পুনবিন‍্যাস করা হয়। বর্তমানে জেলায় মোট উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রয়েছে ২১৯ জন। সেই সঙ্গে ঢাকা ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত থাকা প্রায় ১২ জন চিকিৎসকের সংযুক্তি বাতিল করে ফেরত আনা হয়েছে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এছাড়াও আরও কিছু চিকিৎসকের সংযুক্তি বাতিলের কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

পদ সৃষ্টি না করেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন :

 

২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়। এতে জরুরি ও বর্হিবিভাগ চালু হলেও এখনো আন্তবিভাগের সেবা চালু হয়নি। প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না আন্তবিভাগ। ইতোমধ্যে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ৩২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে ১০ জনের জন্য আবেদন করা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মাত্র ৪টি পদ অনুমোদন পায়। তবে এই ৪ জনের মধ্যে গাইনি, সার্জারি, অ্যানেসথেশিয়ার চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও মেডিসিনের চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংযুক্তিতে আছেন। এছাড়াও ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ১৯ জন মেডিকেল অফিসার দরকার থাকলেও অনুমোদন হয় মাত্র ২টি পদ।

 

সিভিল সার্জনের বক্তব্য :

 

সিভিল সার্জন মো. ছাইফুল ইসলাম খান বলেন, পদ সৃষ্টি না করেই বিগত সরকার এসব প্রতিষ্ঠান চালু করে দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে পদ সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পদ অনুমোদন ও চিকিৎসক বরাদ্দ পেলেই ইনডোর সার্ভিস চালু করা হবে। এরপর অন্য জনবলগুলোর জন্যও অনুমোদন চাওয়া হবে।

 

২৬১ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান :

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ২০১৮ সাল থেকে ২৬৮টি তৃতীয় শ্রেণির পদ শূন্য রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও বিগত সরকারের বেখায়ালিপনায় শেষতক এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আর সম্পন্ন হয়নি। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান জনবল কাটিয়ে তোলার চেষ্টায় চলতি বছরের ১০ আগস্ট ২৬১টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য সহকারি ২৩১, পরিসংখ্যানবিদ ৭, ল্যাবরেটরি এ্যাসিটেন্ট ৩, স্টোর কীপার ১২, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেট ৫ এবং গাড়ী চালক ৩ জনসহ মোট ৬টি পদে আবেদন চলমান আছে। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চলমান জনবল সঙ্কট অনেকটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না গেলে তা চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম।

 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বক্তব্য :

 

জনবল সঙ্কটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহকারি পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা: ইশরাত জানান। তিনি বলেন, জনবল সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও সঙ্কট কাটবে বলে আশা করছি। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সঙ্কট দ্রুত কেটে যাবে। ইতোমধ্যে ৪৮তম বিবিএস’র ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা কিছু চিকিৎসক পাব বলেও আশা করছি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বাকৃবিতে বিএসভিইআরের ৩২তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধন

ফুলপুরে বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

07 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহ স্বাস্থ‍্যবিভাগে শূন্যপদ ৮৪৮, ব‍্যাহত সেবা 

পোষ্টের সময় : ০৭:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

 

বিগত সরকারের বেখায়ালিপনার কারণে জনবল সঙ্কটে ভুগছে ময়মনসিংহ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে সরকারি চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছে এই জেলার প্রায় অর্ধকোটি সাধারন মানুষ। এ সুযোগে উচ্চমূল্যের চিকিৎসা সেবায় পকেট ভারি হচ্ছে ব্যাক্তি মালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে।

 

তবে বর্তমান অন্তবর্তী সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে ঢেলে সাজাতে জনবল নিয়োগসহ নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছে, বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা।

 

সূত্র জানায়, ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী জেলা ময়মনসিংহ। ২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ি এই জেলার জনসংখ্যা ৫৮ লাখ ১ হাজার ১৮৭ জন। এর বিপরীতে জেলার ১৩টি উপজেলার ১১টি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং একটি মা ও শিশু হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্টানে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল। এ কারণে সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিলছে না পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা।

 

জেলায় শূন্যপদ ৮৪৮ টি:

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারিভাবে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৪টি। এর বিপরীতে ২ হাজার ৪৩৬ পদে জনবল বর্তমানে কর্মরত থাকলেও শূন্য রয়েছে ৮৪৮টি মঞ্জুরীকৃত পদ। এসব শূন্য পদের মধ্যে রয়েছে মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারি, সিনিয়র স্টাফ নার্স, পরিসংখ্যানবিদ, ল্যাব এসিসটেন্ট, অফিস সহায়ক, স্টোর কীপার, প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা এবং গাড়ী চালক।

 

ঢেলে সাজাতে চিকিৎসকদের বদলী ও পুনবিন্যাস :

 

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ জেলার নতুন সিভিল সার্জন হিসাবে যোগদান করেছেন ডা: মোহাম্মদ ছ্ইাফুল ইসলাম। দায়িত্বগ্রহন গ্রহন করেই তিনি স্বাস্থ্যবিভাগকে ঢেলে সাজাতে গ্রহন করেন নানা উদ্যোগ। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি চিকিৎসক ঘাটতি পূরণেও সক্রিয় ভূমিকা রাখা। ফলে বিগত এক বছরে যেসব উপজেলায় চিকিৎসক অপেক্ষাকৃত বেশি রয়েছে সেখান থেকে কিছু চিকিৎসক বদলীয় করে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়। এতে ৫ জন মেডিকেল অফিসারকে সমঝোতার ভিত্তিতে বদলী এবং ১৮ জন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে পুনবিন‍্যাস করা হয়। বর্তমানে জেলায় মোট উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রয়েছে ২১৯ জন। সেই সঙ্গে ঢাকা ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত থাকা প্রায় ১২ জন চিকিৎসকের সংযুক্তি বাতিল করে ফেরত আনা হয়েছে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এছাড়াও আরও কিছু চিকিৎসকের সংযুক্তি বাতিলের কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

পদ সৃষ্টি না করেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন :

 

২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়। এতে জরুরি ও বর্হিবিভাগ চালু হলেও এখনো আন্তবিভাগের সেবা চালু হয়নি। প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না আন্তবিভাগ। ইতোমধ্যে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ৩২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে ১০ জনের জন্য আবেদন করা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মাত্র ৪টি পদ অনুমোদন পায়। তবে এই ৪ জনের মধ্যে গাইনি, সার্জারি, অ্যানেসথেশিয়ার চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও মেডিসিনের চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংযুক্তিতে আছেন। এছাড়াও ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ১৯ জন মেডিকেল অফিসার দরকার থাকলেও অনুমোদন হয় মাত্র ২টি পদ।

 

সিভিল সার্জনের বক্তব্য :

 

সিভিল সার্জন মো. ছাইফুল ইসলাম খান বলেন, পদ সৃষ্টি না করেই বিগত সরকার এসব প্রতিষ্ঠান চালু করে দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে পদ সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পদ অনুমোদন ও চিকিৎসক বরাদ্দ পেলেই ইনডোর সার্ভিস চালু করা হবে। এরপর অন্য জনবলগুলোর জন্যও অনুমোদন চাওয়া হবে।

 

২৬১ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান :

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ২০১৮ সাল থেকে ২৬৮টি তৃতীয় শ্রেণির পদ শূন্য রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও বিগত সরকারের বেখায়ালিপনায় শেষতক এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আর সম্পন্ন হয়নি। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান জনবল কাটিয়ে তোলার চেষ্টায় চলতি বছরের ১০ আগস্ট ২৬১টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য সহকারি ২৩১, পরিসংখ্যানবিদ ৭, ল্যাবরেটরি এ্যাসিটেন্ট ৩, স্টোর কীপার ১২, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেট ৫ এবং গাড়ী চালক ৩ জনসহ মোট ৬টি পদে আবেদন চলমান আছে। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চলমান জনবল সঙ্কট অনেকটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না গেলে তা চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম।

 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বক্তব্য :

 

জনবল সঙ্কটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহকারি পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা: ইশরাত জানান। তিনি বলেন, জনবল সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও সঙ্কট কাটবে বলে আশা করছি। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সঙ্কট দ্রুত কেটে যাবে। ইতোমধ্যে ৪৮তম বিবিএস’র ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা কিছু চিকিৎসক পাব বলেও আশা করছি।

 

Share this news as a Photo Card