১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়লা থেকে সম্পদ: নকলা পৌরসভার বর্জ্যে মিলছে জৈব সারের নতুন সম্ভাবনা

একসময় শহরের ময়লা-আবর্জনা ছিল দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ। সেই বর্জ্যই এখন পরিণত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদে। শেরপুরের নকলা পৌরসভায় পরিবেশবান্ধব ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (IWM) পদ্ধতিতে প্রতিদিনের বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে উন্নতমানের উর্বর জৈব সার। এতে একদিকে শহর পরিচ্ছন্ন থাকছে, অন্যদিকে কৃষকের জন্য তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব জৈব সার।

 

নকলা পৌরসভার জালালপুর এলাকায় ১১৬ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মিত প্ল্যান্টটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এটি নকলা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

বর্তমানে পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করে প্ল্যান্টে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পলিথিন, বোতল, প্লাস্টিক, কাঁচ ও ধাতুসহ অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা হয়। পরে পচনশীল বর্জ্য হতে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নতমানের উর্বর কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে এবং পচনশীল অংশ (যেমন- পলিথিন, প্লাস্টিক,বোতল, কাঠ এবং কাচঁ ইত্যাদি) হতে শক্তি উৎপাদন করা হচ্ছে।

 

প্ল্যান্টটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয়। এখানে কঠিন ও মানব বর্জ্য পরিশোধনের জন্য রয়েছে প্ল্যান্টেড ড্রায়িং বেড, অ্যানেরোবিক ব্যাফেল রিঅ্যাক্টর (এবিআর), কনস্ট্রাক্টেড ওয়েটল্যান্ড, পলিশিং পন্ড, কম্পোস্ট শেড, সর্টিং শেড, লিচেট ট্যাংক, কমবাসশন ইউনিট, পার্কিং শেড, অফিস রুম ও গার্ডরুমসহ বিভিন্ন ইউনিট।

 

মানব বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য প্ল্যান্টে ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ভ্যাকুয়াম ট্রাক এবং কঠিন বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য একটি গার্বেজ ট্রাক সরবরাহ করা হয়েছে। ভ্যাকুয়াম ট্রাকের এর মাধ্যমে বিভিন্ন বসত বাড়ি, অফিস আদালত এবং বিভিন্ন স্থাপনার সেপটিক ট্যাংক থেকে ফিক্যাল স্লাজ সংগ্রহ করে প্লান্টে এনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে । এতে উন্মুক্ত স্থানে মানব বর্জ্য ফেলা ও অপরিকল্পিত নিষ্কাশন কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

 

ইতিমধ্যে নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা, প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি), উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নকলা পৌরসভার তৎকালীন মেয়র ও বর্তমান প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ইউনিট, অবকাঠামোর মান এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির ফলে নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও গুণগত মানের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

 

নকলা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর রহমান সুমন বলেন, প্ল্যান্টটি ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় নির্মাণ শেষে এটি পরীক্ষামূলক পরিচালনার পর্যায়ে এসেছে। সঠিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক ও সঠিক প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বর্জ্য পরিবেশের বোঝা না হয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।

 

তিনি আরো বলেন, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা (ট্রেনিং) ও যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে। বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংকির মল (ফিক্যাল স্লাজ) নিরাপদভাবে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য একটি ভ্যাকুয়াম ট্রাক এবং কঠিন বর্জ্য পরিবহনের জন্য গার্বেজ ট্রাক ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। কঠিন বর্জ্যের পাশাপাশি এই ফিক্যাল স্লাজও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

 

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াহেদ খান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ সম্ভাবনাময়। তবে জৈব সার উৎপাদনে ক্ষতিকর উপাদান যাতে মিশ্রিত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত জৈব সার উৎপাদন করা গেলে কৃষকেরা কম দামে তা ব্যবহার করতে পারবেন।

 

নকলা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নকলা পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটির লক্ষ্য বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা। ভবিষ্যতে পৌর এলাকার শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এটির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য রিসাইক্লিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

 

 

 

স্থানীয়দের মতে, আগে যেসব বর্জ্য দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণ ছিল, এখন সেগুলোই প্রক্রিয়াজাত হয়ে কৃষির উপকারী সম্পদে পরিণত হচ্ছে। প্ল্যান্টের আশপাশের পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশও স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

 

প্রায় ৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পেতে হলে নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নকলার এই প্ল্যান্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব মডেল হয়ে উঠতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়লা থেকে সম্পদ: নকলা পৌরসভার বর্জ্যে মিলছে জৈব সারের নতুন সম্ভাবনা

হালুয়াঘাটে জনদুর্ভোগ ও অভিযোগের কথা শুনতে ইউএনওর গণশুনানি

19 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়লা থেকে সম্পদ: নকলা পৌরসভার বর্জ্যে মিলছে জৈব সারের নতুন সম্ভাবনা

পোষ্টের সময় : ১১:০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

একসময় শহরের ময়লা-আবর্জনা ছিল দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ। সেই বর্জ্যই এখন পরিণত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদে। শেরপুরের নকলা পৌরসভায় পরিবেশবান্ধব ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (IWM) পদ্ধতিতে প্রতিদিনের বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে উন্নতমানের উর্বর জৈব সার। এতে একদিকে শহর পরিচ্ছন্ন থাকছে, অন্যদিকে কৃষকের জন্য তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব জৈব সার।

 

নকলা পৌরসভার জালালপুর এলাকায় ১১৬ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মিত প্ল্যান্টটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এটি নকলা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

বর্তমানে পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করে প্ল্যান্টে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পলিথিন, বোতল, প্লাস্টিক, কাঁচ ও ধাতুসহ অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা হয়। পরে পচনশীল বর্জ্য হতে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নতমানের উর্বর কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে এবং পচনশীল অংশ (যেমন- পলিথিন, প্লাস্টিক,বোতল, কাঠ এবং কাচঁ ইত্যাদি) হতে শক্তি উৎপাদন করা হচ্ছে।

 

প্ল্যান্টটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয়। এখানে কঠিন ও মানব বর্জ্য পরিশোধনের জন্য রয়েছে প্ল্যান্টেড ড্রায়িং বেড, অ্যানেরোবিক ব্যাফেল রিঅ্যাক্টর (এবিআর), কনস্ট্রাক্টেড ওয়েটল্যান্ড, পলিশিং পন্ড, কম্পোস্ট শেড, সর্টিং শেড, লিচেট ট্যাংক, কমবাসশন ইউনিট, পার্কিং শেড, অফিস রুম ও গার্ডরুমসহ বিভিন্ন ইউনিট।

 

মানব বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য প্ল্যান্টে ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ভ্যাকুয়াম ট্রাক এবং কঠিন বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য একটি গার্বেজ ট্রাক সরবরাহ করা হয়েছে। ভ্যাকুয়াম ট্রাকের এর মাধ্যমে বিভিন্ন বসত বাড়ি, অফিস আদালত এবং বিভিন্ন স্থাপনার সেপটিক ট্যাংক থেকে ফিক্যাল স্লাজ সংগ্রহ করে প্লান্টে এনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে । এতে উন্মুক্ত স্থানে মানব বর্জ্য ফেলা ও অপরিকল্পিত নিষ্কাশন কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

 

ইতিমধ্যে নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা, প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি), উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নকলা পৌরসভার তৎকালীন মেয়র ও বর্তমান প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ইউনিট, অবকাঠামোর মান এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির ফলে নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও গুণগত মানের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

 

নকলা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর রহমান সুমন বলেন, প্ল্যান্টটি ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় নির্মাণ শেষে এটি পরীক্ষামূলক পরিচালনার পর্যায়ে এসেছে। সঠিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক ও সঠিক প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বর্জ্য পরিবেশের বোঝা না হয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।

 

তিনি আরো বলেন, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা (ট্রেনিং) ও যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে। বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংকির মল (ফিক্যাল স্লাজ) নিরাপদভাবে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য একটি ভ্যাকুয়াম ট্রাক এবং কঠিন বর্জ্য পরিবহনের জন্য গার্বেজ ট্রাক ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। কঠিন বর্জ্যের পাশাপাশি এই ফিক্যাল স্লাজও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

 

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াহেদ খান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ সম্ভাবনাময়। তবে জৈব সার উৎপাদনে ক্ষতিকর উপাদান যাতে মিশ্রিত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত জৈব সার উৎপাদন করা গেলে কৃষকেরা কম দামে তা ব্যবহার করতে পারবেন।

 

নকলা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নকলা পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটির লক্ষ্য বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা। ভবিষ্যতে পৌর এলাকার শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এটির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য রিসাইক্লিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

 

 

 

স্থানীয়দের মতে, আগে যেসব বর্জ্য দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণ ছিল, এখন সেগুলোই প্রক্রিয়াজাত হয়ে কৃষির উপকারী সম্পদে পরিণত হচ্ছে। প্ল্যান্টের আশপাশের পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশও স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

 

প্রায় ৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পেতে হলে নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নকলার এই প্ল্যান্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব মডেল হয়ে উঠতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card