সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে যমুনা রেলসেতুর কয়েকটি পিলারে ফাটলের মতো দাগ দেখা যাওয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, নতুন নির্মিত এই সেতুতে কাঠামোগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি—এটি আসলে ফাটল নয়, বরং প্রচণ্ড গরম ও আবহাওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট স্বাভাবিক চুলাকৃতি দাগ (হেয়ারক্র্যাক), যা কোনোভাবেই সেতুর স্থায়িত্ব বা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি নয়।
প্রকল্পের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী নাইমুল হক জানান, যমুনা রেলসেতুর পশ্চিম প্রান্তের আট থেকে দশটি পিলারের নিচের অংশে খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির ফাঁকা দেখা গেছে। এই ফাঁকা বা দাগগুলোর গভীরতা মাত্র শূন্য দশমিক এক থেকে তিন মিলিমিটারের মধ্যে। তার ভাষায়, “এগুলো প্রকৃত ফাটল নয়। রোদ, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও কংক্রিটের আর্দ্রতার ওঠানামার কারণে এ ধরনের দাগ দেখা দিতে পারে। ট্রেন চলাচলে কোনো প্রভাব পড়বে না।”
তিনি আরও বলেন, “এটি নির্মাণ ত্রুটি নয়, বরং বিশ্বব্যাপী বড় কংক্রিট কাঠামোতেও এমন ক্ষুদ্র দাগ দেখা যায়। আমরা ইতিমধ্যে সবগুলো স্থান পরিদর্শন করেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি—সেতুর মূল কাঠামো সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে যমুনা রেলসেতুর পিলারের বিভিন্ন ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ফাঁকা অংশগুলো বড় আকারে প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছবিগুলো বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত।
২০২৫ সালের মার্চে উদ্বোধন হওয়া যমুনা রেলসেতুটি দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প। এটি ওটিজি-আইএইচআই যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। সেতুটি দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন গতি এনেছে এবং প্রতিদিন শতাধিক ট্রেন এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে। প্রকৌশলীরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তাই সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই।
স্টাফ রিপোর্টার 






















