যশোরে ঘটেছে এক অভাবনীয় ঘটনা—মামার পরিবর্তে কারাগারে গেছেন ভাগ্নে! এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। জানা গেছে, বড় ভেকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর কোতয়ালি থানায় সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় হাসান পঞ্চম আসামি ছিলেন।
চলতি বছরের ২১ অক্টোবর আদালত ওই মামলার শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতে হাজির হননি আসল আসামি হাসান। তার পরিবর্তে আদালতে উপস্থিত হন তারই ভাগ্নে, ২৭ বছর বয়সী শামীম আহমেদ। আদালত ধারণা করে যে হাজির ব্যক্তি হাসান নিজেই, ফলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর কারাগারে নেওয়ার পর রুটিন স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়ার সময় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শামীমের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তার আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। তখনই প্রকাশ পায়, আসল আসামি হাসান নয়, বরং কারাগারে রয়েছেন তার ভাগ্নে শামীম। আরও তদন্তে জানা যায়, মামলার প্রকৃত আসামি হাসান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
এ ঘটনায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী নিজে বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে নতুন একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাসান ও শামীম উভয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি আদালত ও কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। কীভাবে আসামি পরিবর্তন হলো, কীভাবে যাচাই ছাড়া জেলে পাঠানো হলো—এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, এই ঘটনার পর থেকে আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জনমনে এই ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, “এটা বিচার ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা।”
স্টাফ রিপোর্টার 






















