বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজা অভিমুখী নৌযাত্রায় অংশ নেওয়া আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমকে দেশের “অবিচল মনোবলের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার শহিদুল আলমসহ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত সবার নিরাপত্তা ও অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ড. ইউনূস বলেন, শহিদুল আলম বহু বছর ধরে সত্য ও মানবাধিকারের পক্ষে নির্ভীকভাবে কাজ করে আসছেন। ২০১৮ সালে অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে ১০৭ দিন কারাভোগ করতে হয়েছিল, যা তার দৃঢ়তা ও সাহসিকতার প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন, “শহিদুল আলম আজ বাংলাদেশের অবিচল মনোবল ও সত্য বলার সাহসের প্রতীক।”
বিবৃতিতে ইউনূস আরও উল্লেখ করেন, গাজায় চলমান সংঘাতে যে মানবিক বিপর্যয় চলছে, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা, হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংসের ঘটনাগুলো মানবতার জন্য গভীর লজ্জার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজায় নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস বলেন, “শহিদুল আলমের সাহস ও মানবতার প্রতি অঙ্গীকার আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি শুধু একজন আলোকচিত্রী নন, বরং এক প্রতিরোধের প্রতীক, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করতে দ্বিধা করেন না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শহিদুল আলমের পাশে আছি, গাজার পাশে আছি — এখন এবং সর্বদা।”
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজা যাত্রায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এই বিবৃতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ইউনূসের বক্তব্যকে মানবিক ও নৈতিক সাহসের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। শহিদুল আলমের সহকর্মীরাও তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 





















