দেশজুড়ে শারদীয় দুর্গাপূজা এবার অনুষ্ঠিত হবে ৩৩,৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে, যা গত বছরের তুলনায় ১,৮৯৪টি বেশি। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুক্রবার বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনকালে এই তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা মহানগরেই এবার ২৫৯টি মণ্ডপে পূজা হবে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে শনিবার বোধনের মধ্য দিয়ে, এরপর রোববার থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে মহাষ্টমী ও নবমীসহ প্রধান অনুষ্ঠান। বিজয়া দশমীর বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে দেশের সব জেলার শোভাযাত্রা।
পূজা উপলক্ষে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তাদের উদ্বেগ জানিয়ে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পূজার আশ্বাস পেয়েছেন। তবে প্রস্তুতির মধ্যেই দেশের ১৩ জেলায় প্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, “পাঁচ দিনের নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়; সহিংসতা প্রতিরোধ করতে ৩৬৫ দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র ও সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এটি সম্ভব নয়।”
পূজার মণ্ডপে দুইটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়—সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও জোরপূর্বক পদচ্যুতি বন্ধ করা। এছাড়া সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য আট দফা দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ইত্যাদি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২২ দফা নির্দেশনা মেনে পূজা আয়োজন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনা সম্পৃক্ত রাখা; প্রতিমা বিসর্জন নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করা; উচ্চ শব্দ, আতশবাজি ও অপ্রয়োজনীয় গান বাজানো এড়িয়ে চলা; গুজব ও অপরাধে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও উপদেষ্টা আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী।
স্টাফ রিপোর্টার 





















