শেরপুর জেলা কারাগারে এক হাজতির মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাচ্চু মিয়া (৪৫) নামে ওই হাজতির মৃত্যু হয়। তিনি তিন মাস আগে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন।
কারাগার সূত্র জানায়, সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাচ্চু মিয়া। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারাগার এলাকায় দেখা যায় শোকের ছায়া। সহবন্দী ও কারা কর্মকর্তারা জানান, মৃত ব্যক্তি গত কয়েকদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
জেল সুপার জানান, মৃত বাচ্চু মিয়া শেরপুর সদর উপজেলার অধিবাসী ছিলেন। তিন মাস আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন তিনি। জেল সুপার আরও বলেন, “তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত হাসপাতালে পাঠাই। চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।”
এদিকে, মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা মৃত্যুর ঘটনাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। যদি কোনো প্রকার অবহেলার প্রমাণ মেলে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর কারাগারে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময় বন্দিদের অসুস্থতা অবহেলা করা হয়, যার ফলেই এমন মৃত্যু ঘটে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ ধরনের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, কারাগারে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তাই কোনোভাবেই এ ধরনের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়।
স্টাফ রিপোর্টার 






















