সাভার ও ধামরাইয়ের কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার তরল বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষার পানি সরে গেলেও মাটি খনন করতে গিয়ে কৃষকরা দুর্গন্ধযুক্ত কালো কাদা এবং ঝাঁজালো বর্জ্য দেখতে পান। কলতাসুতি ও ডাউটিয়া গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, পচা পানির কারণে ধান ফলানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মো. আলাউদ্দিন নামের এক কৃষক তার জমি থেকে ধান ফলাতে পারেননি। তিনি বলেন, “এখন চোখে অন্ধকার দেখি, পরিবার চালাব কীভাবে?” পাশের কলতাসুতি মৌজার জাকির হোসেনও ২৮ শতক জমিতে ধান বুনলেও মাত্র ৩ শতকই কেটে পেতে পারেন। বাকি জমিতে কারখানার পানি ও কাদা মিশে ধান পচে গেছে।
শিল্পকারখানার বর্জ্য মাটিতে মিলিয়ে বিষাক্ত কাদা তৈরি করছে। ছোট কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। পানি ও মাটির নমুনা পরীক্ষা করা হলে দেখা গেছে ফসফেট, অ্যামোনিয়া ও ভারী ধাতুর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধাতু ও রাসায়নিক সরাসরি ফসলের মধ্যে গিয়ে গুণগত মান ও উৎপাদন কমাচ্ছে।
সরকারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ধামরাই ও সাভারের কৃষিজমি কমেছে, কিন্তু শিল্পকারখানার সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে শিল্প মালিকরা অবাধে পরিবেশ ধ্বংস করছেন। কৃষকরা অভিযোগ করছেন, খালের পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ, খাল-নালা ভরাট, ফলে বর্ষার পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
ধামরাই ও সাভারের আবাদি জমি কমে গেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে, তবে কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এখনও কার্যকর সমাধান হয়নি। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে জমি বিক্রি করছেন।
পরিবেশবিদরা উল্লেখ করেছেন, শিল্পবর্জ্যের অবাধ নিক্ষেপ, ইটিপি না থাকা, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি এবং কৃষিজমির সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ না হওয়াই এই সমস্যা বৃদ্ধির মূল কারণ। সাভার ইতিমধ্যে দূষিত হয়ে গেছে, ধামরাইও দ্রুত সেই পথে চলে যাচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















