জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেসব সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের আইনের চোখে সবাই সমান, তাই সেনাবাহিনীর মধ্যেও কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জাতির গর্ব, কিন্তু সেই মর্যাদাবান বাহিনীর কিছু সদস্য যদি অতীতে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিচার প্রক্রিয়া ও সেনাবাহিনী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং ন্যায়ের পক্ষে একসঙ্গে কাজ করবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড় পেলে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগ—উভয়কেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা জাতির জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তবে তাদের মধ্যে যদি কেউ অপরাধে জড়িত হয়, সেটি সমগ্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।” তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আহ্বান জানান, সরকার যেন এই বিষয়ে রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রভাব ছাড়াই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা বলেন, এটি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই এই আহ্বান।
এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ একে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, এমন মন্তব্য সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তবে অধিকাংশের মতে, অপরাধের বিচার হওয়াই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।
স্টাফ রিপোর্টার 






















