০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থবির বিশ্ব অর্থনীতি: হরমুজে ২০০০ জাহাজসহ ২০ হাজার নাবিক আটকা

 

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা এখন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে। জ্বালানি তেল পরিবহণের প্রধান এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জলপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে দেয়। ফলে অনেক জাহাজ চলাচল করতে পারলেও বীমা না থাকায় বাস্তবে তাদের যাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন পরিষ্কার করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে মাইন সরানো হলেও বীমা খরচ দীর্ঘদিন উচ্চ অবস্থানে থাকবে। যতক্ষণ না স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা হয়, ততক্ষণ এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম।

 

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

 

এদিকে, নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়নি ইরান। দেশটির কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’-এর ছয় নাবিককে ইতোমধ্যে মুক্ত করা হয়েছে। দেশটির ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সির।

 

২৯ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়, যা ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ২৮ ইরানি নাবিক ছিলেন। ইরান এ ঘটনাকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে উল্লেখ করেছে।

 

ইরান শুরু থেকেই বলেছিল, নাবিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। পরিবর্তে ‘আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক পথে’ তাদের মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

 

সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ছয় নাবিক দেশে ফিরেছেন। তবে এখনো বাকি ২২ নাবিক যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের মুক্তির জন্য ইরানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে খরস্রোতা পাহাড়ী নদী ভাঙ্গন রক্ষার দাবিতে মতবিনিময় সভা

সংবাদটা যেনো বস্তুনিষ্ট, সত্য ও নিরপেক্ষ হয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী 

28 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

স্থবির বিশ্ব অর্থনীতি: হরমুজে ২০০০ জাহাজসহ ২০ হাজার নাবিক আটকা

পোষ্টের সময় : ১২:১৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা এখন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে। জ্বালানি তেল পরিবহণের প্রধান এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জলপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে দেয়। ফলে অনেক জাহাজ চলাচল করতে পারলেও বীমা না থাকায় বাস্তবে তাদের যাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন পরিষ্কার করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে মাইন সরানো হলেও বীমা খরচ দীর্ঘদিন উচ্চ অবস্থানে থাকবে। যতক্ষণ না স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা হয়, ততক্ষণ এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম।

 

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

 

এদিকে, নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়নি ইরান। দেশটির কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’-এর ছয় নাবিককে ইতোমধ্যে মুক্ত করা হয়েছে। দেশটির ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সির।

 

২৯ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়, যা ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ২৮ ইরানি নাবিক ছিলেন। ইরান এ ঘটনাকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে উল্লেখ করেছে।

 

ইরান শুরু থেকেই বলেছিল, নাবিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। পরিবর্তে ‘আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক পথে’ তাদের মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

 

সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ছয় নাবিক দেশে ফিরেছেন। তবে এখনো বাকি ২২ নাবিক যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের মুক্তির জন্য ইরানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

Share this news as a Photo Card