০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বৈরাচার পতনের ইতিহাস: গণতন্ত্র ফিরেছে দেশে

 

আজ ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৯০ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতা অস্থায়ী সরকারের হাতে হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসন শেষ হয় এবং দেশের গণতন্ত্র পুনঃস্থাপিত হয়।

 

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বে দুই জোটসহ বামপন্থী দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। আন্দোলনে নূর হোসেন, ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ বহু নেতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

 

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৯০ সালের ২১ নভেম্বর তিন জোট—আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল এবং ৫টি বাম দল—একটি যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। জামায়াতে ইসলামী এই জোটে ছিল না, তবুও আন্দোলনে অংশ নেয়। তবে পরবর্তীতে রূপরেখার অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।

 

ক্ষমতা ছাড়ার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এরশাদ। তাঁর দল জাতীয় পার্টি এখনও সক্রিয়। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের মহাজোটের অংশ হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৪ সালের বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনের পর তিনি ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত’ হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও তিনি সংসদে বিরোধী দলের আসনে ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচন পর জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হন, ২০১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

বিএনপি দিনটিকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’, আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ এবং জাতীয় পার্টি ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে।

 

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

স্বৈরাচার পতনের ইতিহাস: গণতন্ত্র ফিরেছে দেশে

পোষ্টের সময় : ১১:৪৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আজ ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৯০ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতা অস্থায়ী সরকারের হাতে হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসন শেষ হয় এবং দেশের গণতন্ত্র পুনঃস্থাপিত হয়।

 

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বে দুই জোটসহ বামপন্থী দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। আন্দোলনে নূর হোসেন, ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ বহু নেতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

 

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৯০ সালের ২১ নভেম্বর তিন জোট—আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল এবং ৫টি বাম দল—একটি যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। জামায়াতে ইসলামী এই জোটে ছিল না, তবুও আন্দোলনে অংশ নেয়। তবে পরবর্তীতে রূপরেখার অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।

 

ক্ষমতা ছাড়ার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এরশাদ। তাঁর দল জাতীয় পার্টি এখনও সক্রিয়। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের মহাজোটের অংশ হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৪ সালের বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনের পর তিনি ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত’ হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও তিনি সংসদে বিরোধী দলের আসনে ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচন পর জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হন, ২০১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

বিএনপি দিনটিকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’, আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ এবং জাতীয় পার্টি ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে।

 

 

 

Share this news as a Photo Card