০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালুয়াঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট

 

হালুয়াঘাটে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন একযোগে প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে ঘটনার নিন্দা জানায়।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে পৌরশহরের সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

মুক্তিযোদ্ধারা জানায়, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে মুক্তিযোদ্ধারা নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার সম্মুখীন হন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য যথাযথ বসার ব্যবস্থা ছিল না, বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি এবং সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি।

 

এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠানস্থলেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে সেখান থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ সভা করেন।

 

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার অধ্যাপক আমজাদ আলী এবং হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়ন কমান্ডার সাহাম্মদ আলী প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পর এই প্রথম আমরা এমন অবমূল্যায়ন ও অবহেলার শিকার হলাম। একটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

 

বয়কটের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল বলেন, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচি বয়কট করেছি।

 

ঘটনাটি উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জান্নাত বলেন, মূল মঞ্চে সভাপতি ও প্রধান অতিথি ছাড়া কারো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকেনা। সাধারণ মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুভূতি প্রকাশের আহবান করলেও তারা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

হালুয়াঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট

পোষ্টের সময় : ০২:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

 

হালুয়াঘাটে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন একযোগে প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে ঘটনার নিন্দা জানায়।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে পৌরশহরের সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

মুক্তিযোদ্ধারা জানায়, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে মুক্তিযোদ্ধারা নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার সম্মুখীন হন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য যথাযথ বসার ব্যবস্থা ছিল না, বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি এবং সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি।

 

এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠানস্থলেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে সেখান থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ সভা করেন।

 

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার অধ্যাপক আমজাদ আলী এবং হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়ন কমান্ডার সাহাম্মদ আলী প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পর এই প্রথম আমরা এমন অবমূল্যায়ন ও অবহেলার শিকার হলাম। একটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

 

বয়কটের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল বলেন, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচি বয়কট করেছি।

 

ঘটনাটি উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জান্নাত বলেন, মূল মঞ্চে সভাপতি ও প্রধান অতিথি ছাড়া কারো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকেনা। সাধারণ মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুভূতি প্রকাশের আহবান করলেও তারা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

 

Share this news as a Photo Card