জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুদকের উপ-পরিচালক মলয় কুমার সাহা বাদী হয়ে রাজধানীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেলাল হোসাইন চৌধুরী তার দায়িত্ব পালনকালে ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ মেলে। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৭১৩ টাকার সম্পদ তিনি নিজের আয় ও সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেননি। দুদকের তদন্ত দল মনে করছে, এই সম্পদ তার বৈধ উপার্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি অবৈধ উৎস থেকে সংগৃহীত।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, বেলাল হোসাইন চৌধুরী তার আয় ও সম্পদ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন, যা ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ এবং ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭’-এর বিভিন্ন ধারার আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। দুদক সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মামলার পর থেকেই তাকে বিদেশে গমন থেকে বিরত রাখতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি উচ্চপদে থাকা কর্মকর্তাদের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এই মামলাটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
দুদক বলেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক অনিয়ম রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনোভাবেই দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারা নিশ্চিত করেছে, প্রমাণের ভিত্তিতে বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















