বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ কেউ প্রথম দিকে না ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন, জনগণের উত্তাল তরঙ্গ দেখতে পেয়েছেন। জনগণ পুরানা পচা রাজনীতি আর চায় না। পরিবার ব্যক্তি গোষ্ঠী রাজনীতি চায় না। জনগণ দলীয় সরকার দেখতে চায় না। জনগণ জনগণের সরকার দেখতে চায়। অনেকে এখন আস্তে আস্তে বলা শুরু করেছেন আমরাও হ্যাঁ, ঠেলার নাম বাবাজী।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচীন জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে আমির আরও বলেন, চোরেরা চুরি করে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আল্লাহ যেনো তৌফিক দেন ওদের পেটের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা নিয়ে আসতে পারি। এটা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চারগুন। দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে রাজার আদলে বসবাস করবেন আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দিব। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। দেশে মুরগী গরু চুরির জন্য মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়, কিন্তু বড় বড় চোরদের কিছু হয় না। জামায়াত তা হতে দিবে না।
তিরি আরও বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন না। এবারকার নির্বাচন জাতীর স্পষ্ট উপযুক্ত রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। এবার দুটি ভোট একটি হ্যাঁ, হ্যাঁ মানে আজাদী না মানে গোলামী। হ্যাঁ ভোট মা-বোনদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা হ্যাঁতে দিবেন দ্বিতীয়টা ১১দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এরকম একটা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর দেশে কৃষি বিপ্লব হওয়ার কথা। গবেষণা করার জন্য যে পরিমাণ বাজেট দেওয়ার কথা তা দেয়া হয়নি। তারপরেও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে অনেক কিছু দিয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যকোন বড় বিশ্ববিদ্যালয় ধারে কাছেও ছিল না। যদি ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এশিয়া নয় বিশ্বের মধ্যে অন্যতম হবে। জাতী গঠন করতে হলে ভালো শিক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু এই শিক্ষাকে পুঙ্গ বানিয়ে রাখা হয়েছে। সারাদেশে শিক্ষার বাজেট লোটপাট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের ২৩ বছর পরের ৫৪ বছর এই ৭৭ বছর আমরা দেখেছি। আমরা কি সেই পুরনো রাজনীতি চান? চান না। তরুণ-তরুণী এমনকি শিশুরাও চায় না, মা বোনরা চান না। এবার বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়।
আর জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়া তোলা হবে। নারী পুরুষের কর্মসংস্থান সমান ভাবে করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবসমাজ দেশের সম্পদ, তারা কোনো দয়া বা অনুদান চায় না। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবকরা কি বেকার ভাতার জন্য প্রাণ দিয়েছিল? না, তারা বলেছিল আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক ‘বেকার ভাতা’ তুলে দেব না; বরং প্রতিটি বেকার যুবকের হাতকে শক্তিশালী ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।”
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মঞ্চে উঠে দুই হাত নেড়ে সামনের সারিতে বসা দর্শকদের অভিবাদন জানান জামায়াতের আমির।
মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-১১টি সংসদীয় আসনে ১১ জোট মনোনীত প্রার্থীরা। সভা শুরুর আগে সকাল থেকে মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো নগরী।
স্টাফ রিপোর্টার 






















