০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুবিবাহ প্রতিরোধে ময়মনসিংহে এসআরএইচআর নলেজ ফেয়ার অনুষ্ঠিত

 

শিশুবিবাহ প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানকে সামনে এনে আজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় এসআরএইচআর নলেজ ফেয়ার ২০২৬।

 

ইয়ুথ শেয়ার নেট প্রকল্পের আওতায় শেয়ার নেট বাংলাদেশ এবং রেডঅরেঞ্জ-এর উদ্যোগে, এমপ্লিফাই চেঞ্জ-এর সহায়তায় আয়োজিত এই মেলায় তরুণ-তরুণী, গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

বিভাগীয় নলেজ ফেয়ার আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “নো মোর চাইল্ড ব্রাইডস: গ্রাসরুট পাওয়ার টু এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ”, অর্থাৎ শিশুবিবাহ বন্ধে তৃণমূলের শক্তিকে সক্রিয় করা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শিশুবিবাহ এখনো একটি বড় সামাজিক ও মানবাধিকার সংকট। বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু ঝুঁকির কারণে শিশুবিবাহ একটি প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসে যে, জাতীয় পর্যায়ে আইন ও নীতিমালা থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ কমিটি অকার্যকর, স্থানীয় নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা সীমিত এবং কিশোরীদের নিজস্ব মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিফলিত হয় না। এই নলেজ ফেয়ারের সুপারিশসমূহ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

“ফ্রম কমিটমেন্ট টু কমিউনিটি: ব্রিজিং পলিসি অ্যান্ড রিয়েলিটি ইন প্রিভেন্টিং চাইল্ড ম্যারেজ” শীর্ষক উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) উম্মে হাবিবা মীরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক মো. মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, রেডঅরেঞ্জ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্নব চক্রবর্তী, পরিচালক (স্বাস্থ্য ও জেন্ডার) খালেদা ইয়াসমিন এবং সিরাক-বাংলাদেশের উপ-পরিচালক মো. সেলিম মিয়া।

 

উদ্বোধনী বক্তব্যে এস এম সৈকত শিশুবিবাহ প্রতিরোধে তরুণদের নেতৃত্ব, অংশগ্রহণমূলক সংলাপ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্নব চক্রবর্তী। এ অধিবেশনে নওশিন শারমিলা বাঁধন কনফারেন্সের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন। একজন তরুণী তার জীবনে বাল্যবিবাহের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে এবং বিষয়টির মানবিক দিককে সামনে নিয়ে আসে। দিনব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন সেশনে শিশুবিবাহ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR), লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, সহিংসতা এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

 

“ইয়ুথ রিয়েলাইজিং ড্রিমস: অ্যাসপিরেশনস ভার্সেস অ্যাকশন ফর এ বেটার ফিউচার” শীর্ষক সেশনে তরুণদের নেতৃত্ব, বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা এবং কমিউনিটি-নির্ভর উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও তা কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তরিত করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

“মাল্টি-সেক্টর পার্সপেক্টিভস অন এসআরএইচআর-ব্রিজিং গ্যাপস, বিল্ডিং ব্রিজেস” শীর্ষক সেশনে গণমাধ্যম, সিভিল সোসাইটি ও সামাজিক কর্মীদের অংশগ্রহণে বহুমাত্রিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, শিশুবিবাহ প্রতিরোধে আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ জোরদার করা জরুরি। স্কুলভিত্তিক “অ্যাডোলসেন্ট ব্রিগেডস” পুনরুজ্জীবন, শিক্ষার্থী, পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় গড়ে তোলা এবং অনানুষ্ঠানিক গ্রাম্য সালিশের পরিবর্তে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে ভিকটিম-ব্লেমিং বন্ধ করে ইতিবাচক সামাজিক মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

 

“যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (SRHR) সম্পর্কিত সরকারি কর্মপরিকল্পনা সমন্বয়করণ” সেশনে সরকারি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়, সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

 

“কণ্ঠস্বর থেকে কর্মপদক্ষেপ: শিশুবিবাহ বিষয়ে ময়মনসিংহের সুপারিশ প্রণয়ন” শীর্ষক সমাপনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এস এম সৈকত। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহের পরিচালক মো. হাবেজ আহমেদ।

 

এই আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো “ময়মনসিংহ বিভাগীয় শিশুবিবাহ ঘোষণা”, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও সুপারিশসমূহ সংকলিত হয়েছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ঘোষণা জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বক্তারা অভিমত দেন যে, প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই সমস্যাকে আরও তীব্র করছে। শিশুবিবাহের ফলে কিশোরীদের শিক্ষা ব্যাহত হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো বাকৃবি সোহরাওয়ার্দী হলের ‘ক্রিমসন হাইস্ট’ ফিস্ট

20 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

শিশুবিবাহ প্রতিরোধে ময়মনসিংহে এসআরএইচআর নলেজ ফেয়ার অনুষ্ঠিত

পোষ্টের সময় : ০৬:২৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

 

শিশুবিবাহ প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানকে সামনে এনে আজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় এসআরএইচআর নলেজ ফেয়ার ২০২৬।

 

ইয়ুথ শেয়ার নেট প্রকল্পের আওতায় শেয়ার নেট বাংলাদেশ এবং রেডঅরেঞ্জ-এর উদ্যোগে, এমপ্লিফাই চেঞ্জ-এর সহায়তায় আয়োজিত এই মেলায় তরুণ-তরুণী, গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

বিভাগীয় নলেজ ফেয়ার আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “নো মোর চাইল্ড ব্রাইডস: গ্রাসরুট পাওয়ার টু এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ”, অর্থাৎ শিশুবিবাহ বন্ধে তৃণমূলের শক্তিকে সক্রিয় করা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শিশুবিবাহ এখনো একটি বড় সামাজিক ও মানবাধিকার সংকট। বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু ঝুঁকির কারণে শিশুবিবাহ একটি প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসে যে, জাতীয় পর্যায়ে আইন ও নীতিমালা থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ কমিটি অকার্যকর, স্থানীয় নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা সীমিত এবং কিশোরীদের নিজস্ব মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিফলিত হয় না। এই নলেজ ফেয়ারের সুপারিশসমূহ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

“ফ্রম কমিটমেন্ট টু কমিউনিটি: ব্রিজিং পলিসি অ্যান্ড রিয়েলিটি ইন প্রিভেন্টিং চাইল্ড ম্যারেজ” শীর্ষক উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) উম্মে হাবিবা মীরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক মো. মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, রেডঅরেঞ্জ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্নব চক্রবর্তী, পরিচালক (স্বাস্থ্য ও জেন্ডার) খালেদা ইয়াসমিন এবং সিরাক-বাংলাদেশের উপ-পরিচালক মো. সেলিম মিয়া।

 

উদ্বোধনী বক্তব্যে এস এম সৈকত শিশুবিবাহ প্রতিরোধে তরুণদের নেতৃত্ব, অংশগ্রহণমূলক সংলাপ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্নব চক্রবর্তী। এ অধিবেশনে নওশিন শারমিলা বাঁধন কনফারেন্সের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন। একজন তরুণী তার জীবনে বাল্যবিবাহের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে এবং বিষয়টির মানবিক দিককে সামনে নিয়ে আসে। দিনব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন সেশনে শিশুবিবাহ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR), লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, সহিংসতা এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

 

“ইয়ুথ রিয়েলাইজিং ড্রিমস: অ্যাসপিরেশনস ভার্সেস অ্যাকশন ফর এ বেটার ফিউচার” শীর্ষক সেশনে তরুণদের নেতৃত্ব, বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা এবং কমিউনিটি-নির্ভর উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও তা কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তরিত করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

“মাল্টি-সেক্টর পার্সপেক্টিভস অন এসআরএইচআর-ব্রিজিং গ্যাপস, বিল্ডিং ব্রিজেস” শীর্ষক সেশনে গণমাধ্যম, সিভিল সোসাইটি ও সামাজিক কর্মীদের অংশগ্রহণে বহুমাত্রিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, শিশুবিবাহ প্রতিরোধে আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ জোরদার করা জরুরি। স্কুলভিত্তিক “অ্যাডোলসেন্ট ব্রিগেডস” পুনরুজ্জীবন, শিক্ষার্থী, পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় গড়ে তোলা এবং অনানুষ্ঠানিক গ্রাম্য সালিশের পরিবর্তে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে ভিকটিম-ব্লেমিং বন্ধ করে ইতিবাচক সামাজিক মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

 

“যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (SRHR) সম্পর্কিত সরকারি কর্মপরিকল্পনা সমন্বয়করণ” সেশনে সরকারি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়, সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

 

“কণ্ঠস্বর থেকে কর্মপদক্ষেপ: শিশুবিবাহ বিষয়ে ময়মনসিংহের সুপারিশ প্রণয়ন” শীর্ষক সমাপনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এস এম সৈকত। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহের পরিচালক মো. হাবেজ আহমেদ।

 

এই আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো “ময়মনসিংহ বিভাগীয় শিশুবিবাহ ঘোষণা”, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও সুপারিশসমূহ সংকলিত হয়েছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ঘোষণা জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বক্তারা অভিমত দেন যে, প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই সমস্যাকে আরও তীব্র করছে। শিশুবিবাহের ফলে কিশোরীদের শিক্ষা ব্যাহত হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

 

Share this news as a Photo Card