১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবনে দুজন প্রিয় মানুষের একজন আমার স্ত্রী, আরেকজন আসিম মুনির: ভ্যান্স

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজের জীবনের দুই ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘প্রিয়’ ভারতীয় ও পাকিস্তানি ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন। এ সময় তিনি ভারতীয় হিসেবে নিজের স্ত্রী উষা ভ্যান্সের নাম ও পাকিস্তানি হিসেবে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আসিম মুনিরের কূটনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন ও বলেন, গত তিন মাসে তিনি মুনিরের সঙ্গে অন্য যে কারও তুলনায় বেশি কথা বলেছেন।

 

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে লেক লুসার্নের তীরবর্তী একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ভ্যান্স এসব মন্তব্য করেন। ওই সময় আলোচক দলের সদস্যদের সঙ্গে আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

 

মুনিরের প্রশংসা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তার রাষ্ট্রনায়কসুলভ আচরণ না থাকলে আমি আজ এখানে থাকতাম না। তিনি অবশ্যই একজন অসাধারণ সামরিক নেতা। আমি এও মনে করি তিনি নিজেকে একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবেও প্রমাণ করেছেন। এছাড়া তিনি একজন অসাধারণ নেতা।

 

ভ্যান্স বলেন, কয়েক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হওয়ায় ওয়াশিংটন কৃতজ্ঞ। তিনি এ সপ্তাহের শুরুতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

 

তবে তিনি বলেন, এখন দেখার বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই পর্যায় থেকে কতটা এগোতে পারে এবং কতটা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

 

আলোচনা শুরুর সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন হলো আমরা একসঙ্গে আর কত কিছু অর্জন করতে পারি? আমরা কি নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারি?

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কি মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারি, নাকি আমরা আবার পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাবো? সেটি আমাদের পছন্দ নয়, কিন্তু এমনটা ঘটতে পারে।

 

ভ্যান্স বলেন, আমরা কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে রূপান্তর করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চাই। তিনি ইরানের সঙ্গে এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ বলেও অভিহিত করেন।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এর আগে কখনো এত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

তার ভাষায়, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ‘নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করা, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।’

 

এদিকে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে এবং ইরানের যুদ্ধ বন্ধে হওয়া নাজুক অন্তর্বর্তী চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেডি ভ্যান্স ও জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।

 

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে থাকা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

 

সূত্র: এনডিটিভি

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জীবনে দুজন প্রিয় মানুষের একজন আমার স্ত্রী, আরেকজন আসিম মুনির: ভ্যান্স

পরীমনির ফুটবলপ্রেমে আর্জেন্টিনা আবহ

21 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

জীবনে দুজন প্রিয় মানুষের একজন আমার স্ত্রী, আরেকজন আসিম মুনির: ভ্যান্স

পোষ্টের সময় : ০৮:২৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজের জীবনের দুই ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘প্রিয়’ ভারতীয় ও পাকিস্তানি ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন। এ সময় তিনি ভারতীয় হিসেবে নিজের স্ত্রী উষা ভ্যান্সের নাম ও পাকিস্তানি হিসেবে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আসিম মুনিরের কূটনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন ও বলেন, গত তিন মাসে তিনি মুনিরের সঙ্গে অন্য যে কারও তুলনায় বেশি কথা বলেছেন।

 

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে লেক লুসার্নের তীরবর্তী একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ভ্যান্স এসব মন্তব্য করেন। ওই সময় আলোচক দলের সদস্যদের সঙ্গে আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

 

মুনিরের প্রশংসা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তার রাষ্ট্রনায়কসুলভ আচরণ না থাকলে আমি আজ এখানে থাকতাম না। তিনি অবশ্যই একজন অসাধারণ সামরিক নেতা। আমি এও মনে করি তিনি নিজেকে একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবেও প্রমাণ করেছেন। এছাড়া তিনি একজন অসাধারণ নেতা।

 

ভ্যান্স বলেন, কয়েক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হওয়ায় ওয়াশিংটন কৃতজ্ঞ। তিনি এ সপ্তাহের শুরুতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

 

তবে তিনি বলেন, এখন দেখার বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই পর্যায় থেকে কতটা এগোতে পারে এবং কতটা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

 

আলোচনা শুরুর সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন হলো আমরা একসঙ্গে আর কত কিছু অর্জন করতে পারি? আমরা কি নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারি?

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কি মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারি, নাকি আমরা আবার পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাবো? সেটি আমাদের পছন্দ নয়, কিন্তু এমনটা ঘটতে পারে।

 

ভ্যান্স বলেন, আমরা কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে রূপান্তর করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চাই। তিনি ইরানের সঙ্গে এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ বলেও অভিহিত করেন।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এর আগে কখনো এত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

তার ভাষায়, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ‘নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করা, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।’

 

এদিকে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে এবং ইরানের যুদ্ধ বন্ধে হওয়া নাজুক অন্তর্বর্তী চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেডি ভ্যান্স ও জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।

 

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে থাকা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

 

সূত্র: এনডিটিভি

 

Share this news as a Photo Card