০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ৮

 

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) চালানো এই হামলাকে ‘ভয়াবহ আক্রমণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

 

চার বছরেরও বেশি সময় আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

 

জেলেনস্কি জানান, মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর একটি অবকাঠামোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়ায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে রুশ ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।

 

এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুমি অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় ৬৯ বছর বয়সী এক নারী ও ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ। দেশটির আরও অন্তত ছয়টি অঞ্চলেও প্রাণঘাতী হামলার খবর পাওয়া গেছে।

 

রুশ হামলার পর ইউক্রেনের আটটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গ্রিড অপারেটর উক্রেনেরগো। তীব্র গরমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

এ অবস্থায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইউরোপের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন অত্যন্ত জরুরি।

 

অন্যদিকে, পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়া ও রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলায় রুশ সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অগ্রযাত্রা ধীর হয়ে পড়েছে।

 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, এ পরিস্থিতিতেও রাশিয়া আগ্রাসন থেকে সরে আসবে না এবং শেষ পর্যন্ত জয় তাদেরই হবে।

 

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং রুশ বাহিনী তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

 

এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ বলেছে, ক্রেমলিনের কঠোর অবস্থান মূলত পশ্চিমা দেশ ও ইউক্রেনকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নিতে চাপ দেওয়ার কৌশল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ২০২৬ সালে এসে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক কার্যকারিতা আগের তুলনায় কমে গেছে।

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত তারা ২০৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, একই সময়ে রাশিয়ার ছোড়া ১০৮টি ড্রোনের মধ্যে ৮২টি তারা ধ্বংস করেছে।

 

সূত্র: এবিসি নিউজ

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে হুইলচেয়ার ও নেবুলাইজার কিট বিতরণ

কোনো নোটিশ ছাড়াই ভারতে ভাঙ্গা হল তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজার

01 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ৮

পোষ্টের সময় : ০৮:০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) চালানো এই হামলাকে ‘ভয়াবহ আক্রমণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

 

চার বছরেরও বেশি সময় আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

 

জেলেনস্কি জানান, মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর একটি অবকাঠামোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়ায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে রুশ ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।

 

এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুমি অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় ৬৯ বছর বয়সী এক নারী ও ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ। দেশটির আরও অন্তত ছয়টি অঞ্চলেও প্রাণঘাতী হামলার খবর পাওয়া গেছে।

 

রুশ হামলার পর ইউক্রেনের আটটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গ্রিড অপারেটর উক্রেনেরগো। তীব্র গরমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

এ অবস্থায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইউরোপের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন অত্যন্ত জরুরি।

 

অন্যদিকে, পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়া ও রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলায় রুশ সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অগ্রযাত্রা ধীর হয়ে পড়েছে।

 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, এ পরিস্থিতিতেও রাশিয়া আগ্রাসন থেকে সরে আসবে না এবং শেষ পর্যন্ত জয় তাদেরই হবে।

 

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং রুশ বাহিনী তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

 

এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ বলেছে, ক্রেমলিনের কঠোর অবস্থান মূলত পশ্চিমা দেশ ও ইউক্রেনকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নিতে চাপ দেওয়ার কৌশল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ২০২৬ সালে এসে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক কার্যকারিতা আগের তুলনায় কমে গেছে।

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত তারা ২০৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, একই সময়ে রাশিয়ার ছোড়া ১০৮টি ড্রোনের মধ্যে ৮২টি তারা ধ্বংস করেছে।

 

সূত্র: এবিসি নিউজ

 

Share this news as a Photo Card