০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফারাক্কার সব গেট খুলতে শুভেন্দুকে ফোন বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর

 

ভারতের বিহারে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রোববার (২৩ আগস্ট) ফোনে কথা বলার সময় তিনি এ অনুরোধ জানান।

 

সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি ও বিহারের বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

 

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কার গেটগুলো খুলে দিলে গঙ্গার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হতে সহায়তা করবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে। এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

সম্রাট চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমানে বিহারের মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে ফারাক্কা বাঁধ ও ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও বিহারে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনতা দল-ইউনাইটেডের সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চুক্তিটির ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে।

 

বাংলাদেশে কী প্রভাব পড়তে পারে

 

ফারাক্কা বাঁধ ভারতের গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো। বাঁধের downstream অংশ দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গার পানি বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নদী নামে প্রবাহিত হয়। ফলে ফারাক্কা থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার ঘটনা বাংলাদেশে নদীর পানি বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোতে পানির চাপ বাড়লে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা ও শরীয়তপুরের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে নদীভাঙন ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

 

তবে ফারাক্কার গেট খোলার পর বাংলাদেশে ঠিক কতটা পানি প্রবেশ করবে বা এর ফলে কী মাত্রার প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে গঙ্গার সামগ্রিক প্রবাহ, উজানের বৃষ্টিপাত, নদীর পানির উচ্চতা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতির ওপর।

 

ফারাক্কা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়, যার মেয়াদ ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।

 

সূত্র: এএনআই

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ফারাক্কার সব গেট খুলতে শুভেন্দুকে ফোন বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর

পোষ্টের সময় : ০৭:২১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

ভারতের বিহারে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রোববার (২৩ আগস্ট) ফোনে কথা বলার সময় তিনি এ অনুরোধ জানান।

 

সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি ও বিহারের বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

 

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কার গেটগুলো খুলে দিলে গঙ্গার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হতে সহায়তা করবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে। এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

সম্রাট চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমানে বিহারের মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে ফারাক্কা বাঁধ ও ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও বিহারে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনতা দল-ইউনাইটেডের সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চুক্তিটির ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে।

 

বাংলাদেশে কী প্রভাব পড়তে পারে

 

ফারাক্কা বাঁধ ভারতের গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো। বাঁধের downstream অংশ দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গার পানি বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নদী নামে প্রবাহিত হয়। ফলে ফারাক্কা থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার ঘটনা বাংলাদেশে নদীর পানি বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোতে পানির চাপ বাড়লে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা ও শরীয়তপুরের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে নদীভাঙন ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

 

তবে ফারাক্কার গেট খোলার পর বাংলাদেশে ঠিক কতটা পানি প্রবেশ করবে বা এর ফলে কী মাত্রার প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে গঙ্গার সামগ্রিক প্রবাহ, উজানের বৃষ্টিপাত, নদীর পানির উচ্চতা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতির ওপর।

 

ফারাক্কা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়, যার মেয়াদ ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।

 

সূত্র: এএনআই

 

Share this news as a Photo Card