ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক পদে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা শাহ মো. তানভীর। তিনি ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং ফুলপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি কারাভোগও করেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে।
শাহ মো. তানভীরের রাজনৈতিক পথচলার শুরু ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে উপজেলা যুবদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিএনপির রাজনীতির বিভিন্ন কঠিন সময়ে মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে শাহ মো. তানভীরকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এ কারণে তৃণমূলের একাংশের কাছে তিনি ‘কারা নির্যাতিত নেতা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন।
তৃণমূলকে শক্তিশালী করার প্রত্যয়
রূপসী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে শাহ মো. তানভীর বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও দলের জন্য কাজ করে যেতে চান। দায়িত্ব পেলে রূপসী ইউনিয়ন বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেবেন।
তিনি বলেন, “দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম, মামলা ও কারাভোগের মতো কঠিন পরিস্থিতিও মোকাবিলা করেছি। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
শাহ মো. তানভীরের মতে, একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠনের মূল ভিত্তি হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নেতৃত্বে আসার লক্ষ্য কী?
আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পেলে রূপসী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শাহ মো. তানভীর। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়িয়ে একটি কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তাঁর অনুসারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন সময়ে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে তৃণমূলের নেতৃত্বের জন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
তবে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক পদে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষ। দলীয় সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা
রূপসী ইউনিয়নের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে হলে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
শাহ মো. তানভীরের প্রার্থিতা ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। তাঁর অনুসারীরা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও প্রতিকূল সময়ে দলের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দায়িত্ব পেলে রূপসী ইউনিয়ন বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করতে পারবেন।
এদিকে আহ্বায়ক পদে নিজের প্রার্থিতা নিয়ে শাহ মো. তানভীর বলেন, “পদ-পদবির জন্য নয়, দলকে শক্তিশালী করাই আমার মূল লক্ষ্য। দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। দায়িত্ব পেলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
রূপসী ইউনিয়ন বিএনপির নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়ায় এখন দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শাহ মো. তানভীরের প্রার্থিতা সেই প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, ফুলপুর 



















