নেত্রকোনার পূর্বধলায় বহুল আলোচিত যুবলীগ নেতা ও ১৯ মামলার আসামি বুলবুল মীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযানে অংশ নেয় পূর্বধলা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নূরুল আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বুলবুল মীরকে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”
হোগলা ইউনিয়নের চলিতডহর গ্রামের মৃত সুরুজ আলী মীরের ছেলে বুলবুল মীর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী যুবলীগের সক্রিয় নেতা পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল মীরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, বিস্ফোরক, সরকারি জমি দখল এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ডাকাতিসহ অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সর্বশেষ হোগলা বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র বনিকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছর পর বছর বুলবুল মীর হোগলা ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। যুবলীগের পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম চালিয়ে গেছেন নির্ভয়ে। তার দাপটে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত থাকত।
হোগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. দুলাল খান বলেন, “বুলবুলের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।” বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল জানান, “সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। মাদক থেকে শুরু করে ডাকাতি—এমন কোনো অপরাধ নেই যেখানে সে জড়িত নয়।”
এদিকে বুলবুল মীরের গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভয়ে দিন কাটানো স্থানীয়রা এখন খানিকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























