১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধারালো অস্ত্রেই বিচারকের ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনের (১৯) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়াই তার মৃত্যুর মূল কারণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

 

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন ও প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে। ময়নাতদন্ত চলাকালীন বাইরে অপেক্ষা করছিলেন নিহতের বাবা বিচারক আব্দুর রহমান। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা দাফনের জন্য জামালপুরে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

 

ময়নাতদন্তের প্রধান চিকিৎসক ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, তাওসিফের ডান উরু, ডান পা ও বাহুতে ধারালো এবং চোখা অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। এসব স্থানে রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখিত গলার কালশিরা দাগ সম্পর্কে তিনি জানান, কোনো নরম কাপড় চেপে ধরার কারণে দাগটি হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর কারণ নয়। ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত ও শ্বাসরোধ—দুটিই একই সময়ে করার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাটির মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলাকারী লিমন মিয়া বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার ভাড়া বাসায় তাওসিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় তাওসিফের মা তাসমিন নাহার লুসী ও হামলাকারী লিমন মিয়া আহত হন।

 

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, তাসমিন নাহার লুসীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন। হামলাকারীও ধস্তাধস্তির সময় আহত হয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং পুলিশ তার ওপর নজর রাখছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে দুই-তিন মাস লাগবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

19 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ধারালো অস্ত্রেই বিচারকের ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

পোষ্টের সময় : ০২:২২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

 

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনের (১৯) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়াই তার মৃত্যুর মূল কারণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

 

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন ও প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে। ময়নাতদন্ত চলাকালীন বাইরে অপেক্ষা করছিলেন নিহতের বাবা বিচারক আব্দুর রহমান। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা দাফনের জন্য জামালপুরে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

 

ময়নাতদন্তের প্রধান চিকিৎসক ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, তাওসিফের ডান উরু, ডান পা ও বাহুতে ধারালো এবং চোখা অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। এসব স্থানে রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখিত গলার কালশিরা দাগ সম্পর্কে তিনি জানান, কোনো নরম কাপড় চেপে ধরার কারণে দাগটি হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর কারণ নয়। ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত ও শ্বাসরোধ—দুটিই একই সময়ে করার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাটির মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলাকারী লিমন মিয়া বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার ভাড়া বাসায় তাওসিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় তাওসিফের মা তাসমিন নাহার লুসী ও হামলাকারী লিমন মিয়া আহত হন।

 

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, তাসমিন নাহার লুসীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন। হামলাকারীও ধস্তাধস্তির সময় আহত হয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং পুলিশ তার ওপর নজর রাখছে।

 

Share this news as a Photo Card