সরকারি স্থাপনা ও জনসেবামূলক অবকাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর স্থানীয় সরকার গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে নেত্রকোনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) নেত্রকোনা, অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশকর্মী, উন্নয়নকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হলে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে।
পরিবেশকর্মী নাজিম উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সরকারি ও জনসেবামূলক স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) নেত্রকোনার সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার খান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নেট মিটারিং সুবিধার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বিদ্যুতের ভোক্তা নয়, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদক হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি ভবনের ছাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বাজারসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এসব স্থানে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন আয়ের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সমন্বিত ‘সোলার সিটি’ বা ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, সরকারি স্থাপনা ও জনসেবামূলক অবকাঠামোকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে আরও সাশ্রয়ী, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা সম্ভব।
স্টাফ রিপোর্টার, ফুলপুর 


















