নেত্রকোনার মদন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মদন উপজেলায় ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যয় স্লিপ ফান্ড থেকে সমন্বয়ের কথা রয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের রামপুর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা জানান, রামপুর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৭২ জন এবং বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
রামপুর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন জানায়, পরীক্ষার ফি হিসেবে তার কাছ থেকে ৪০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, সে ৫০ টাকা দিয়েছে।
বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন জানায়, সে ৫০ টাকা দিয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশকা জানায়, তার কাছ থেকে ৪০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, আগে কখনও পরীক্ষার জন্য ফি দিতে হয়নি।
রামপুর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাজী মান্না বেগম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কমিটিতে আলোচনা হয়েছিল, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ফি নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আগে স্লিপ ফান্ড থেকে সমন্বয় করা হতো। এবার শিক্ষা অফিস থেকে প্রশ্ন কিনতে হয়েছে, খাতাও কিনতে হয়েছে। এতে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”
বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম বলেন, “সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে শিক্ষক এমদাদ স্যার কথা বলেছেন। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শুধু আমার স্কুল নয়, প্রায় সব স্কুলেই ফি নেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে, হাসনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, “ফি নেওয়ার বিষয়ে অফিস থেকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।”
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 





















