নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে ময়মনসিংহে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শক্তির ধারণা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর কুমার উপেন্দ্র বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয় ও নওমহল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট একশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন), বিডাব্লিউজিইডি এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস।
দুটি পৃথক আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমার উপেন্দ্র বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন এবং নওমহল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে জীবাশ্ম জ্বালানী আমদানি করছে। অথচ সূর্যের আলো ও সম্ভাবনাময় বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনি বিদেশ নির্ভরতা কমবে।”
মনিকা পারভীন বলেন, “বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানী সংকট দেখা দিচ্ছে। কিন্তু সূর্য এমন একটি শক্তির উৎস, যা কোনো পরিস্থিতিতেই থেমে থাকে না। তাই আমাদের নিজস্ব নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।”
মিলন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানীর বিকল্প নেই। কারণ আমরা প্রায় শেষ করে ফেলেছি খনিজভিত্তিক জীবাশ্ম জ্বালানী। তাই আগামীর পৃথিবীর জন্য নবায়নযোগ্য শক্তিই একমাত্র ভরসা।”
সভাপতির বক্তব্যে রেবেকা সুলতানা বলেন, “অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর পক্ষে কাজ করছে। নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সূর্যভিত্তিক শক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে পড়বে–এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জীবাশ্ম জ্বালানীর যুগ শেষ হয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
প্রতিযোগিতায় চারটি পৃথক গ্রুপে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে রচনা ও চিত্রাঙ্কনে ২০ জন করে এবং প্রাথমিক পর্যায়েও একইভাবে ২০ জন করে শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুতে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রচনার বিষয় ছিল ‘সূর্য, পানি ও বাতাসের শক্তি–আমাদের বন্ধু’ এবং চিত্রাঙ্কনের বিষয় ছিল ‘সূর্য, বাতাস ও পানির শক্তি–আমাদের গ্রাম’। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে চিত্রাঙ্কনের বিষয় ছিল ‘কয়লা ও গ্যাসের যুগ শেষ, সূর্য ও বাতাসের শক্তির দেশে’ এবং রচনার বিষয় ছিল ‘আমাদের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: সংকট ও সম্ভাবনা’।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানী ব্যবহারের বিষয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ প্রমাণ করে, নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে সচেতনতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 





















