১০:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শম্ভুগঞ্জে ৩০০ মিটার রাস্তার পানিতে সারা বাজারে ভোগান্তি

শম্ভুগঞ্জ বাজারে রাস্তায় জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় মানুষজনকে। ছবি- ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শম্ভুগঞ্জ বাজারে প্রায় ৩০০মিটার রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে পুরোবাজারে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষদের। বারবার বলার পরেও রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ ব্যবসায়ীদে।

আগামী সাতদিনের মধ্যে রাস্তা মেরামত করে চলাচলের উপযোগি না করলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারীদেন ব্যবসায়ী নেতারা। তবে কতৃর্পক্ষ বলছেন, রাস্তা সংস্কার করতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। গত রোববার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩৩নম্বর ওয়ার্ডে শম্ভূগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখাযায়, বাজারের প্রধান রাস্তাটির প্রায় ৩০০মিটার টাখনুর উপর পর্যন্ত পানি।

এতে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। রাস্তাটির দু’পাশে ফল, মনোহারি এবং সবজির দোকান থাকলেও পানি কারণে কোন ক্রেতা আসতে দেখা যায়নি। যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি। স্থানীয়রা বলছেন, ৫/৬ বছর ধরে রাস্তাটির এমন অবস্থা। বছরের ছ’মাস পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হলে ভোগান্তি আরও বেপঢ় যায়। সিটি করপোরেশন এবিষয়ে অবগত থাকার পরেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন তারা।

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক হামিদুল ইসলাম বলেন, সামান্য একটু রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় অটোরিকশার ব্যাটারিতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়। এই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করা খুব বিপদ। রাস্তা করা হয়েছে কিন্তু পানি নামার ড্রেন না করায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের। তরমুজ ব্যবসায়ি আতাউর রহমান বলেন, রাস্তার পাশে আমার তরমুজের দোকান। গত শনিবার রাতে সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাটিতে টাখনুর উপর পর্যন্ত পানি জমেছে। সেই পানি আবার অনেক দুর্গন্ধ। অনেকের পায়ে পঁচা পানি লেগে ফুসকা পড়ে গেছে। পানির জন্য বেচাকেনা একেবারেই নেই। কারণ ক্রেতারা ময়লা পানি দিয়ে বাজারে আসতে চায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, সিটি করপোরেশনের মধ্যে শম্ভূগঞ্জ একটি জমজমাট বাজার। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি এই বাজারে নিয়ে আসেন। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য যথাসময়ে বাজারজাত করতে পারছেন না। আমরা চাই অন্তত ব্যবসায়িদের সুবিধার জন্য সিটি করপোরেশন দ্রæত উদ্যোগ নিবে। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আবু জাফর সুমন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের পাশে রয়েছি। মানুষ আমাকে অনেক মূল্যায়ন করে। তাই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমি নিজেও কাজ করছি। আমি চাই আমার এলাকার মানুষের দুভোর্গ যেন না হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার মধ্যে এতো পানি; বৃষ্টি বেশি হলে দোকানপাটেও পানি ঢুকে যায়। একবার পানি জমলে ১০—১৫দিনেও সরে না। কারণ পানি যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

শম্ভুগঞ্জ বাজার সমবায় সমিতি সভাপতির আব্দুল মান্নান বলেন, ঐতিহ্যবাহী শম্ভূগঞ্জ বাজারটি এক বছরের জন্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকায় সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ইজারা নেয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে ব্যবসায়িদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সিটি করপোরেশন রাজস্ব পেলেও ব্যবসায়িদের সুবিধা তারা দেখছে না। বারবার বলার পরেও রাস্তা সংস্কারে তাদের কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেই। আগামী সাতদিনের মধ্যে রাস্তা মেরামত না করলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বাজার পরিদর্শক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই রাস্তাটি মেরামতের পাশাপাশি শম্ভূগঞ্জ বাজারে ড্রেন ও শেড নিমার্ণের জন্য প্রকৌশলী বিভাগে তালিকা পাঠানো হয়েছে। অচিরেই তারা কাজ শুরু করবেন। কাজ বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়িদের ভোগান্তি আর থাকবে না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ফুলপুরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, ফলাফল নিয়ে দুই দলের পাল্টাপাল্টি দাবি

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কেন্দুয়ায় সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চমক

10 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

শম্ভুগঞ্জে ৩০০ মিটার রাস্তার পানিতে সারা বাজারে ভোগান্তি

পোষ্টের সময় : ০২:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শম্ভুগঞ্জ বাজারে প্রায় ৩০০মিটার রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে পুরোবাজারে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষদের। বারবার বলার পরেও রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ ব্যবসায়ীদে।

আগামী সাতদিনের মধ্যে রাস্তা মেরামত করে চলাচলের উপযোগি না করলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারীদেন ব্যবসায়ী নেতারা। তবে কতৃর্পক্ষ বলছেন, রাস্তা সংস্কার করতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। গত রোববার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩৩নম্বর ওয়ার্ডে শম্ভূগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখাযায়, বাজারের প্রধান রাস্তাটির প্রায় ৩০০মিটার টাখনুর উপর পর্যন্ত পানি।

এতে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। রাস্তাটির দু’পাশে ফল, মনোহারি এবং সবজির দোকান থাকলেও পানি কারণে কোন ক্রেতা আসতে দেখা যায়নি। যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি। স্থানীয়রা বলছেন, ৫/৬ বছর ধরে রাস্তাটির এমন অবস্থা। বছরের ছ’মাস পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হলে ভোগান্তি আরও বেপঢ় যায়। সিটি করপোরেশন এবিষয়ে অবগত থাকার পরেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন তারা।

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক হামিদুল ইসলাম বলেন, সামান্য একটু রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় অটোরিকশার ব্যাটারিতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়। এই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করা খুব বিপদ। রাস্তা করা হয়েছে কিন্তু পানি নামার ড্রেন না করায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের। তরমুজ ব্যবসায়ি আতাউর রহমান বলেন, রাস্তার পাশে আমার তরমুজের দোকান। গত শনিবার রাতে সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাটিতে টাখনুর উপর পর্যন্ত পানি জমেছে। সেই পানি আবার অনেক দুর্গন্ধ। অনেকের পায়ে পঁচা পানি লেগে ফুসকা পড়ে গেছে। পানির জন্য বেচাকেনা একেবারেই নেই। কারণ ক্রেতারা ময়লা পানি দিয়ে বাজারে আসতে চায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, সিটি করপোরেশনের মধ্যে শম্ভূগঞ্জ একটি জমজমাট বাজার। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি এই বাজারে নিয়ে আসেন। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য যথাসময়ে বাজারজাত করতে পারছেন না। আমরা চাই অন্তত ব্যবসায়িদের সুবিধার জন্য সিটি করপোরেশন দ্রæত উদ্যোগ নিবে। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আবু জাফর সুমন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের পাশে রয়েছি। মানুষ আমাকে অনেক মূল্যায়ন করে। তাই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমি নিজেও কাজ করছি। আমি চাই আমার এলাকার মানুষের দুভোর্গ যেন না হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার মধ্যে এতো পানি; বৃষ্টি বেশি হলে দোকানপাটেও পানি ঢুকে যায়। একবার পানি জমলে ১০—১৫দিনেও সরে না। কারণ পানি যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

শম্ভুগঞ্জ বাজার সমবায় সমিতি সভাপতির আব্দুল মান্নান বলেন, ঐতিহ্যবাহী শম্ভূগঞ্জ বাজারটি এক বছরের জন্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকায় সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ইজারা নেয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে ব্যবসায়িদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সিটি করপোরেশন রাজস্ব পেলেও ব্যবসায়িদের সুবিধা তারা দেখছে না। বারবার বলার পরেও রাস্তা সংস্কারে তাদের কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেই। আগামী সাতদিনের মধ্যে রাস্তা মেরামত না করলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বাজার পরিদর্শক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই রাস্তাটি মেরামতের পাশাপাশি শম্ভূগঞ্জ বাজারে ড্রেন ও শেড নিমার্ণের জন্য প্রকৌশলী বিভাগে তালিকা পাঠানো হয়েছে। অচিরেই তারা কাজ শুরু করবেন। কাজ বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়িদের ভোগান্তি আর থাকবে না।

 

Share this news as a Photo Card