চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কিরণগঞ্জ সীমান্তে এক আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয় শুক্রবার সকালে। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ মিলে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন পর বোনের মরদেহের মুখ দেখতে পারেন বাংলাদেশের নাগরিক আতাউর রহমান।
৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন জানায়, ভারতের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার দুইছত্রবিঘী গ্রামের বাসিন্দা ফনি বেগম (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে ৪ ডিসেম্বর মারা যান। মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বাংলাদেশের শিবগঞ্জের পোদ্দারপাড়া এলাকার ভাই আতাউর রহমান বিজিবির কাছে বোনের মরদেহ দেখার আবেদন জানান।
বিজিবির তাৎক্ষণিক যোগাযোগে বিএসএফ সম্মতি জানালে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় ২০ মিনিট দু’পক্ষের উপস্থিতিতে শূন্যরেখায় মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘদিন দেখা না হওয়া বোনের মুখ দেখে আবেগে ভেঙে পড়েন আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘কাঁটাতার ও নানা আইনি কারণে বহু বছর বোনকে দেখতে পারিনি। জীবিত অবস্থায় আর দেখা হলো না—তবে শেষবার দেখার সুযোগ পেয়ে মনটা কিছুটা হালকা লাগছে।’
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, মানবিক কাজে ভূমিকা রাখাকে তারা দায়িত্বের অংশ বলেই বিবেচনা করেন। তিনি আরও বলেন, গত মাসেও আজমতপুর সীমান্তে এ ধরনের মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
এ ঘটনার পর সীমান্তে উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যেও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সীমান্ত বিভক্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের কষ্ট ও বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায় সবার চোখেমুখে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















