প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক অধ্যাপক যতীন সরকারের মৃত্যুর পর তাকে স্মরণ করতে নেত্রকোনায় এক নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের মোক্তারপাড়া পাবলিক হল মিলনায়তনে এই শোকসভায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক যতীন সরকারের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোকসভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক যতীন সরকার ছিলেন বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গবেষক। তার লেখনী প্রজন্মকে আলোকিত করেছে এবং বাঙালি জাতির চেতনা জাগ্রত করতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে লেখক ও গবেষক আলী আহাম্মদ খান “আইয়ুব” লিখিত শোকপত্র পাঠ করেন, যা পরে অধ্যাপক যতীন সরকারের ছোট ভাই অধ্যাপক মতিন্দ্র সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শোকসভায় রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি তার কর্ম ও জীবনভিত্তিক একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
অধ্যাপক যতীন সরকার ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি তিনি ইতিহাস, সাহিত্য ও সমাজবিষয়ক মোট ৫১টি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৩ আগস্ট ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জীবদ্দশায় বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
বক্তারা বলেন, তার মৃত্যুতে জাতি এক আলোকবর্তিকা হারালো, তবে তার চিন্তা, দর্শন ও গবেষণা আগামী প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















