পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আবুল কাশেমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় তিনি ধর্ষণের শিকার এক শিশুর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অশোভন ও অপেশাদারসুলভ আচরণ করছেন। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।
প্রশাসনের দেওয়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত ভিডিওতে ডা. কাশেমকে রোগীর পরিবারের সঙ্গে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৩(খ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এর ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরখাস্তের সময়সীমায় তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতাদি পাবেন। তবে এই সময়ে তিনি চাকরির স্বাভাবিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। ঘটনাটির পর হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব হলো সর্বোচ্চ সহমর্মিতার সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তা সমাজ ও পেশার মর্যাদার সঙ্গে বেমানান।
এ ঘটনার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসক সমাজের অনেকে জানিয়েছেন, রোগীর পরিবারকে এভাবে অসম্মান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসা সেবার জায়গায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে শোকজ নোটিশ দেওয়ার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যখাতে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার বিষয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা পেশার মর্যাদা রক্ষায় এবং রোগীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















