তৃতীয় দিনের শেষে যে শঙ্কা দানা বেঁধেছিল, চতুর্থ দিনের সকালেই সেটি রূপ নেয় বাস্তবতায়। মাত্র ৩৪ বল টিকে থাকতে পেরেছে বাংলাদেশ। কলম্বো টেস্টে ইনিংস ও ৭৮ রানে বিধ্বস্ত হয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। গলে টিকে থাকলেও, কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ছিল ভিন্ন দৃশ্যপট—এখানেই সিরিজ নিজেদের করে নেয় শ্রীলঙ্কা।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ছিল ৬ উইকেটে ১১৫ রানে, ৯৬ রানে পিছিয়ে। হাতে গোনা কয়েকজন ব্যাটার, শেষ ভরসা লিটন দাস। কিন্তু সকালটা শুরুই হয় দুঃসংবাদ দিয়ে—চতুর্থ ওভারে জয়াসুরিয়ার বল লিটনের ব্যাট ছুঁয়ে গিয়ে ধরা পড়ে উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিসের গ্লাভসে। এরপর যেন উইকেট পতনের মিছিল—নাঈম, তাইজুল, এবাদত একে একে ফেরেন। মাত্র ১৮ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার বামহাতি স্পিনার প্রবাথ জয়াসুরিয়া আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি এই মুহূর্তে লঙ্কান স্পিন আক্রমণের সেরা অস্ত্র। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই তুলে নেন ৫ উইকেট। তার নিয়ন্ত্রিত লাইন ও ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের ব্যাটারদের ঘায়েল করে দেয় পুরোপুরি।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৪৭ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে। জবাবে পাথুম নিশাঙ্কার দুর্দান্ত ১৫৮ রানের ইনিংসের উপর ভর করে শ্রীলঙ্কা তোলে ৪৫৮ রান। ব্যাটে-বলে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে।
গল টেস্টে ব্যাট হাতে দারুণ পারফর্ম করা বাংলাদেশ, কলম্বোতে যেন রূপান্তরিত এক দল। এনামুল হক বিজয় ও সাদমান ইসলামের ব্যর্থতায় শুরু থেকেই বিপর্যস্ত ওপেনিং জুটি। এরপর মিডল অর্ডার থেকেও আসেনি বড় ইনিংস—মুশফিক, শান্ত, মুমিনুল সবাই ছিলেন থিতু, কিন্তু বড় রানে রূপ দিতে পারেননি কেউই।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হেরে এখন ওয়ানডে সিরিজের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। একই মাঠে আগামী বুধবার শুরু হবে তিন ম্যাচের সিরিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৪৭
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ৪৫৮
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৩৩ (৪৪.২ ওভার)
ফলাফল: শ্রীলঙ্কা জয়ী ইনিংস ও ৭৮ রানে
ম্যাচসেরা: পাথুম নিশাঙ্কা
সিরিজসেরা: পাথুম নিশাঙ্কা



























