০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এপিআই শিল্পে ২০% প্রণোদনা প্রস্তাব

 

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প স্থানীয় চাহিদার ৯৮% পূরণ করতে সক্ষম হলেও কাঁচামালের ক্ষেত্রে চরম আমদানিনির্ভর। এপিআই (একটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইঙ্গ্রেডিয়েন্ট) আমদানি করতে বছরে কোটি কোটি টাকা বিদেশে যায়। এই নির্ভরতা কমিয়ে চীন ও ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে এপিআই শিল্পে সর্বোচ্চ ২০% প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে ‘এপিআই শিল্পের উন্নয়ন: নীতি ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। সভার আয়োজন করে অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস, বাংলাদেশ (এএইচআরবি)।

 

সভায় সঞ্চালনা করেন বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও এএইচআরবি’র আহ্বায়ক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ভারত ও চীনের মতো বাংলাদেশেও এ খাতে সর্বোচ্চ ২০% প্রণোদনা, পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা, স্বল্প সুদের ঋণ এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করা যেতে পারে।

 

বাংলাদেশ এপিআই অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুর রহমান জানান, ভারতের স্থায়ী টাস্কফোর্সের মতো বাংলাদেশেরও একটি স্থায়ী টাস্কফোর্স থাকা প্রয়োজন, যাতে এপিআই শিল্পের সম্প্রসারণ ও প্রতিযোগিতার কৌশল ঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়।

 

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, নীতিগত সহায়তা ছাড়া এ শিল্প টেকসই হতে পারবে না। বর্তমানে দেশের কাঁচামাল প্রাথমিকভাবে চীন ও ভারত থেকে আসে এবং সেখানে উৎপাদিত দাম আমাদের দেশে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।

 

এপিআই পার্কের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি জানান, ৪৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কারখানা স্থাপন হলেও, সরকার থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে শিল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদন ছাড়া দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে বাংলাদেশ অল্প সময়ে এপিআই উৎপাদনে আত্মনির্ভর হতে পারবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

মুক্তাগাছায় পিসিসির সমন্বিত শিক্ষা বিষয়ক সংযোগ সভা

বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসে বাকৃবিতে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

19 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

এপিআই শিল্পে ২০% প্রণোদনা প্রস্তাব

পোষ্টের সময় : ০২:৩১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

 

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প স্থানীয় চাহিদার ৯৮% পূরণ করতে সক্ষম হলেও কাঁচামালের ক্ষেত্রে চরম আমদানিনির্ভর। এপিআই (একটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইঙ্গ্রেডিয়েন্ট) আমদানি করতে বছরে কোটি কোটি টাকা বিদেশে যায়। এই নির্ভরতা কমিয়ে চীন ও ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে এপিআই শিল্পে সর্বোচ্চ ২০% প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে ‘এপিআই শিল্পের উন্নয়ন: নীতি ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। সভার আয়োজন করে অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস, বাংলাদেশ (এএইচআরবি)।

 

সভায় সঞ্চালনা করেন বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও এএইচআরবি’র আহ্বায়ক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ভারত ও চীনের মতো বাংলাদেশেও এ খাতে সর্বোচ্চ ২০% প্রণোদনা, পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা, স্বল্প সুদের ঋণ এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করা যেতে পারে।

 

বাংলাদেশ এপিআই অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুর রহমান জানান, ভারতের স্থায়ী টাস্কফোর্সের মতো বাংলাদেশেরও একটি স্থায়ী টাস্কফোর্স থাকা প্রয়োজন, যাতে এপিআই শিল্পের সম্প্রসারণ ও প্রতিযোগিতার কৌশল ঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়।

 

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, নীতিগত সহায়তা ছাড়া এ শিল্প টেকসই হতে পারবে না। বর্তমানে দেশের কাঁচামাল প্রাথমিকভাবে চীন ও ভারত থেকে আসে এবং সেখানে উৎপাদিত দাম আমাদের দেশে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।

 

এপিআই পার্কের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি জানান, ৪৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কারখানা স্থাপন হলেও, সরকার থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে শিল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদন ছাড়া দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে বাংলাদেশ অল্প সময়ে এপিআই উৎপাদনে আত্মনির্ভর হতে পারবে।

 

Share this news as a Photo Card