‘আমার বাজানের দমডা কিবায়(কীভাবে) জানি গেছে গো। কত কষ্ট জানি অইছে,আমার এতো বড় সর্বনাশ কারা করলো গো।’__ছেলের লাশের অপেক্ষায় বিলাপ করে কথাগুলো বলছিলেন ইজিবাইক চালক আলমগীর হোসেনের মা মদিনা খাতুন।
আজ(২৩ আগস্ট) শনিবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামে গিয়ে দেখা এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
নিহত ইজিবাইক চালক আলমগীরের পরিবার জানায়, গত দুই মাস আগে নগদ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকী টাকা কিস্তিতে দেওয়ার শর্তে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কিনেন মো. আলমগীর হোসেন(২৫)। স্ত্রী সনিয়া ও ছয় বছর বয়সের একমাত্র মেয়ে জোনাকিকে নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গিচরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন ইজিবাইক চালক আলমগীর। গত শুক্রবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে নিয়ে নিখোঁজ হন আলমগীর। দিনভর অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার রাতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে খবর পাঠায় আলমগীরের স্ত্রী সোনিয়া। রাতেই বাবা লাল মিয়া ও বড় ভাই জাহাঙ্গীর নিখোঁজ আলমগীরের খোঁজ নিতে ঢাকা চলে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার রাত ১ টার দিকে আলমগীরের লাশের সন্ধান পায় পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৯৯৯-এ কল পেয়ে আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠায় রাজধানীর কাফরুল থানা পুলিশ। পরে হাসপাতলের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একটি ট্রাক ধাক্কা দিয়ে আলমগীরকে রাস্তার পাশে ফেলে যায়।
আলমগীরের বাবা লাল মিয়া বলেন,পুলিশ আইনী কাজ শেষ করে এই মাত্র লাশ হস্তান্তর করেছে। আমার ছেলের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। সকাল ১১ টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এ বিষয়ে কাফরুল থানার এসআই আল-মামুন জানান,’আমরা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে অজ্ঞাত অবস্থায় লোকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। হাসপাতালে তার মৃত্যু হলে পিবিআই থেকে আঙ্গুলের ছাপের মাধ্যমে তার এনআইডি সংগ্রহ করে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরহেদ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 























